প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৫
আমতলীর সিফাতের হাতেই তৈরি যুদ্ধবিমান
বরগুনার আমতলী উপজেলার গাজীপুর বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র সওকত ইসলাম সিফাত নিজের হাতে তৈরি করেছেন দুইটি যুদ্ধবিমান, একটি আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা, মিসাইল ও যুদ্ধজাহাজ। তার এমন সৃষ্টিশীল কাজ দেখে এলাকাবাসী তাকে ‘খুদে বিজ্ঞানী’ উপাধিতে ভূষিত করেছেন।সিফাতের বাড়ি আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর রাওগা গ্রামে। তিনি কৃষক মো. বশির প্যাদা ও গৃহিণী চম্পা আক্তারের ছেলে। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান ও আবিষ্কারে তার গভীর আগ্রহ ছিল।২০২৫ সালের শুরুতে রাশিয়ার তৈরি ‘মিগ–২৯’ মডেলের যুদ্ধবিমান তৈরির উদ্যোগ নেন সিফাত। টানা তিন মাসের পরিশ্রমে সেটি সফলভাবে তৈরি করে আকাশে উড়িয়ে দেখান তিনি। এরপর আমেরিকার ‘এফ–২২ র্যাপটর’ মডেলের যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাডার, মিসাইল ও যুদ্ধজাহাজ তৈরি করেন। তার সবকটি আবিষ্কারই কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।মা চম্পা আক্তার বলেন, “ছেলে সারাক্ষণ গবেষণায় মগ্ন থাকে। তার তৈরি বিমান আকাশে উড়ে, যুদ্ধজাহাজ পানিতে চলে, রাডার ও মিসাইলও কাজ করে। কিন্তু আমাদের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ওর প্রতিভা বিকশিত করতে পারছে না।”সিফাত জানান, টিফিনের টাকা জমিয়ে এবং প্রতিবেশীদের সহায়তায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে তিনি এসব আবিষ্কার সম্পন্ন করেছেন। “আমি বৈজ্ঞানিক হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে চাই,”—বলেন এই খুদে বিজ্ঞানী।বাবা মো. বশির প্যাদা বলেন, “ছেলের প্রতিভা দেখে যতটুকু পারি সহযোগিতা করি। কিন্তু এখন আর পেরে উঠছি না। সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠান সহায়তা করলে ও আরও দূর এগিয়ে যাবে।”গাজীপুর বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহীন মাহমুদ বলেন, “সিফাত আমাদের বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র। ক্লাসের বাইরে সে নানা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে সময় দেয়। বিদ্যালয় থেকেও তাকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তা পেলে সে আরও সাফল্য অর্জন করবে।”আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, “সিফাতের উদ্ভাবনী কর্মের বিষয়ে জেনেছি। তাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।”এলাকাবাসীর আশা—এই প্রতিভাবান খুদে বিজ্ঞানী একদিন জাতীয় পর্যায়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন।
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল এ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত