প্রকাশের তারিখ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
থানায় অভিযোগের পরও ছিনতাইকারী রেহাই, ক্ষোভে ভুগছেন সাংবাদিক
আইনের আশ্রয় নিলেও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক। তিনি কালিহাতী উপজেলার দ্বিমুখা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। মধুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর, হাতেনাতে মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং আসামি আটক সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে ছিনতাইকারীকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মধুপুর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ আশিক শনিবার (২০ ডিসেম্বর ) সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি একজন পেশাগত সাংবাদিক। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যদি আমার জীবন, সম্পদ ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থার কল্পনা করা যায়।ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, গত ১৪ ডিসেম্বর মধুপুর উপজেলার গোপদ গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে আলামিন হোসেন বাবু এর বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার বরাবর দায়ের করেন। অভিযোগের প্রতিশোধ হিসেবে ১৯ ডিসেম্বর বিকেলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তার মোটরসাইকেল ছিনতাই করা হয়।তিনি বলেন, বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মধুপুর থানাধীন গোপদ এতিমখানা সংলগ্ন বিজয় ইটভাটার সামনে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি নিয়ে আলামিন হোসেন বাবু তার মোটরসাইকেল জোরপূর্বক ছিনতাই করে। ঘটনার পরপরই তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিসহ মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।কিন্তু পরদিন সকালে তিনি জানতে পারেন, কোনো দালিলিক প্রমাণ ছাড়াই পুলিশ একটি পাল্টা অভিযোগ গ্রহণ করে আসামিকে মুক্তি দিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মোটরসাইকেলসহ হাতেনাতে আটক একজন অভিযুক্ত কীভাবে কোনো তদন্ত ছাড়াই মুক্তি পায়? থানায় অভিযোগ দেওয়ার মানে কি অপরাধীরাই নিরাপদ থাকবে?ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরও জানান, ঘটনার পর তার পরিবারও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আজ আমার মোটরসাইকেল গেছে, কাল আমার জীবন গেলে দায় নেবে কে?সংবাদ সম্মেলনে তিনি টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, প্রকৃত ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে সমাজে অপরাধীদের উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ন্যায়বিচার, সাংবাদিক নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সচেতনতা সৃষ্টি করা।
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল এ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত