প্রকাশের তারিখ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
কনকনে শীতে কালিহাতীর মানুষের নীরব লড়াই
ভোরের আলো ওঠার আগেই যেন কালিহাতী নিজেকে ঢেকে ফেলে সাদা কুয়াশার চাদরে। চারদিক নিস্তব্ধ পথঘাট, মাঠ আর জনপদ হারিয়ে যায় অদৃশ্যতার ভেতর। হিমেল বাতাস কাঁপিয়ে তোলে শরীর, কনকনে শীতে নীরব হয়ে পড়ে প্রকৃতি। তবু এই থমকে যাওয়া ভোরেও থামে না জীবনের চলা।ঘন কুয়াশার আড়াল ভেদ করে প্রতিদিনের মতোই ঘর ছাড়েন খেটে খাওয়া মানুষগুলো। জীবনের তাগিদ তাদের ঠেলে নিয়ে যায় শীতল সকালের পথে। কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, ভ্যানচালক আর ছোট দোকানিরা। কারণ কাজ না করলে যে ঘরের চুলা নিভে যায়।গত কয়েকদিন ধরে কালিহাতী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ক্রমেই নিচে নামছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত এমন কুয়াশা নেমে আসে যে কয়েক হাত দূরের কিছুই স্পষ্ট নয়। মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন হেডলাইট আর ফগলাইটই যেন চালকদের একমাত্র ভরসা।এই প্রতিকূল সময়ে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষরা। সীমিত শীতবস্ত্র গায়ে জড়িয়েই নামতে হচ্ছে কাজে। কাঁপুনি থামাতে কোথাও আগুন জ্বলে, কোথাও মোটা কাপড়ে মোড়া শরীর তবু কাজ থামে না। অনেকের কণ্ঠে একই কথা শীত থাকুক, না থাকুক, পেটের দায় বড়।তীব্র শীত আর কুয়াশার মাঝেও উপজেলার বাজারগুলোতে থেমে থাকে না জীবনের স্পন্দন। সকাল হতেই জমে ওঠে কেনাবেচা। শাকসবজি আর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বেচাকেনা চলে আগের মতোই। ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই করেই দোকান সামলান ব্যবসায়ীরা কারও পাশে জ্বলছে আগুন, কারও গায়ে মোটা কম্বল।স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শীত মানুষের কষ্ট বাড়ালেও জীবন থেমে থাকে না। তবে এই সময়ে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। শীতবস্ত্র বিতরণ, শীতজনিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা এখন এসবই সময়ের দাবি।আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং কুয়াশা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষের ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।কুয়াশার ভেতর দাঁড়িয়েও কালিহাতীর মানুষ জানে জীবন থেমে থাকার জন্য নয়। শীত যতই কঠিন হোক, সংগ্রামের আগুনে তারা প্রতিদিনই নিজেদের গরম রাখে।
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল এ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত