প্রকাশের তারিখ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬
নাসিরনগরে দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষ, পুলিশসহ শতাধিক আহত, নিয়ন্ত্রণে নামলো সেনাবাহিনী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জেরে কলম ধর এবং রসুন মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সূত্রপাত ও বিবরণ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুন্ডা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের প্রভাবশালী দুই পক্ষ—কলম ধর ও রসুন মিয়ার গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আজ সকালে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের ওপর হামলা ও পিছুটান খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। তবে সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। বিপুল সংখ্যক দাঙ্গাকারীর সামনে পুলিশ হিমশিম খায় এবং এক পর্যায়ে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে গেলে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের অনুরোধে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করলে সংঘর্ষকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। বর্তমানে এলাকায় সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বর্তমান অবস্থা আহতদের উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে এবং দোষীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল এ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত