প্রকাশের তারিখ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬
নাসিরনগরে হত্যাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট-এলাকাজুড়ে আতঙ্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত জোড়া হত্যার জেরে ভয়াবহ হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ধরমন্ডল এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্য জিতু মেম্বার ও কুতুবউদ্দিনের গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে জিতু মেম্বার গুরুতর আহত হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় আহত খলিল মিয়া (৩৫), পিতামহরম কালাই মিয়া, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৯ জানুয়ারি মারা যান। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে।খলিল মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার গোষ্ঠীর লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ কুতুবউদ্দিনের বাড়িসহ আশপাশের একাধিক বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় শাহীন মিয়া, আমির আলী, শিশু মিয়া, অলিল মিয়া, শাহ-আলম, ছোট্ট মিয়া ও নশাই মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর চারপাশেক আগুনে পোড়া চিহ্ন ছড়িয়ে আছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভুক্তভোগীরা জানান, হামলাকারীরা তাদের বসতঘরে আগুন দিয়ে নগদ অর্থসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এক ভুক্তভোগী বলেন, এক নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেছে, আমরা নিঃস্ব।নিহত জিতু মিয়া ও খলিল মিয়ার পরিবার পৃথকভাবে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল এ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত