প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কালিহাতী বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি দমনে জিরো টলারেন্স ঘোষণা
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্র কালিহাতী বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে সরাসরি অভিযানে নেমেছেন কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জে.ও.এম. তৌফিক আজম।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ওসি নিজেই উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি পরিবহন শ্রমিক, সিএনজি চালক, যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভিযোগ-পরামর্শ শোনেন।ওসি তৌফিক আজম স্পষ্টভাবে জানান, বাসস্ট্যান্ডে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা যাত্রী হয়রানি বরদাশত করা হবে না। কেউ আইনের বাইরে গিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি শুধু আইনগত অপরাধ নয়, এটি সামাজিক অস্থিরতারও কারণ। তাই নিরাপদ ও শৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে।অভিযান চলাকালে ভুক্তভোগীদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ করে দিতে নিজের মোবাইল নম্বর সংবলিত কার্ড বিতরণ করেন ওসি। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক শাহ আলম বলেন, চাঁদাবাজি দমনে পুলিশের এই দৃঢ় পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। জনস্বার্থে এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।কালিহাতী প্রেসক্লাব-এর নেতা ডাঃ গৌরাঙ্গ বিশ্বাস ও সাবেক সভাপতি তারেক আহমেদ বলেন,বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল। ওসি তৌফিক আজমের সরাসরি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন শুরু হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক।একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মিল্টন জানান, আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। এতে ভুক্তভোগীরা সাহস পাবে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং চাঁদাবাজদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চললে কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড স্থায়ীভাবে চাঁদাবাজ ও দখলমুক্ত থাকবে।আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে আস্থা ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল এ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত