প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬
কসবায় জমি বিরোধে নৃশংস হত্যা, অভিযুক্ত আসামীরা পলাতক গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন, পুত্র শোকে মায়ের মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রতন মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার সৎ ভাতিজা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার পৌর এলাকার আড়াইবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর আড়াইবাড়ি জামে মসজিদে নামাজ শেষে স্থানীয় গ্রামবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। আড়াইবাড়ি গ্রামের শফিক মাস্টার বলেন, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে আসামীরা পালিয়ে গেছে তাদের গ্রেফতার করতে হবে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু ছায়েদ বলেন, আসামিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে আসামীরা গ্রেফতার না হলে যে কোন সময় অঘটন ঘটাবে আসামীরা। আড়াইবাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া জানান, এমন ঘটনা যেন আমরা না দেখতে পাই আইনের মাধ্যমে আসামিদের সবোর্চ্চ শাস্তি নিশ্চিত করেত হবে, বক্তারা আরো বলেন, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড যেন আর না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মা মৃত্যু বরণ করেন। এলাকাবাসী জানান পুত্র শোকে তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে তাদের দাবী আসামীদের দূত্ব গ্রেফতার যেন করা হয়নিহত রতন মিয়া আড়াইবাড়ি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে। অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের তার ভাই রেজাউল করিম মিলন মিয়ার ছেলে রিফাত মিয়া (৩২), সিফাত মিয়া (২৪) এবং তাদের খালাতো ভাই গোপীনাথপুর গ্রামের সামির মিয়া (১৮)।নিহতের বড় মেয়ে আইরিন ইসলাম হ্যাপি জানান, জমি নিয়ে তাদের সঙ্গে চাচা ও চাচাতো ভাইদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলছিল। বুধবার সকাল থেকেই প্রতিপক্ষ তার বাবাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বিকেলে তিনি জমিতে কাজ করতে গেলে অভিযুক্তরা লাঠিসোটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি মারধরের পর জমিতে থাকা আগাছা কাটার কাচি দিয়ে তার হাত-পায়ের রগ কেটে ফেলে রেখে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রতন মিয়াকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে তার অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়।স্থানীয় সাবেক পৌর কমিশনার মো. আবু সায়িদ বলেন, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একাধিকবার শালিস বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।এ বিষয়ে কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজনীন সুলতানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল এ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত