প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬
সাগরকন্যা কুয়াকাটায় প্রতিদিনই নানা আয়োজনে ইফতার পার্টি
পবিত্র মাহে রমজানকে ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত-এর সমুদ্রপাড়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন গ্রুপ, বন্ধু সার্কেল ও নানা পেশার মানুষের উদ্যোগে ইফতার পার্টির আয়োজন হচ্ছে।বিকেলের শেষ ভাগে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য আর সমুদ্রের শান্ত বাতাস উপভোগ করতে করতে এসব আয়োজনকে ঘিরে সৈকতে তৈরি হচ্ছে এক ভিন্নধর্মী পরিবেশ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রমজান শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রতিদিন বিকেলে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় অসংখ্য ইফতার আয়োজন দেখা যায়। কোনোটি বন্ধুদের উদ্যোগে, আবার কোনোটি বিভিন্ন সংগঠন বা পেশাজীবীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খোলা আকাশের নিচে সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝে বসে একসঙ্গে ইফতার করার অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই বিশেষ আনন্দের।ইফতার আয়োজনে সাধারণত খেজুর, ফল, ছোলা, মুড়ি, শরবতসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। বিকেলের দিকে বিভিন্ন দল নিজেদের মতো করে সমুদ্রের পাড়ে বসে ইফতারের প্রস্তুতি নেন। সূর্যাস্তের ঠিক আগে ইফতারের আয়োজন ও মানুষের উপস্থিতিতে সৈকত এলাকায় তৈরি হয় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য।ইফতার আয়োজনে অংশ নেওয়া বন্ধু সার্কেলের সদস্য এবং ইমরান বলেন, “বন্ধুদের নিয়ে সমুদ্রের পাড়ে বসে ইফতার করার অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। প্রকৃতির এত সুন্দর পরিবেশে সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করলে এক ধরনের আনন্দ ও প্রশান্তি পাওয়া যায়।”আরেক অংশগ্রহণকারী সজীব এবং শামীম আহমেদ বলেন, “রমজান মাসে কাজের ব্যস্ততার মাঝেও বন্ধুরা মিলে একদিন সমুদ্রের পাড়ে ইফতার করা আমাদের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত। এখানে এসে সবাই মিলে ইফতার করলে বন্ধুত্বের বন্ধনও আরও দৃঢ় হয়।”এ বিষয়ে মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, “রমজান মাসে সমুদ্রের পাড়ে বন্ধুদের নিয়ে ইফতার করার পরিবেশ সত্যিই মনোমুগ্ধকর। প্রতিদিনই বিভিন্ন গ্রুপ, বিভিন্ন সার্কেল ও বিভিন্ন পেশার মানুষ এখানে ইফতার পার্টির আয়োজন করছেন। তবে এই আয়োজন করতে গিয়ে আমাদের সবাইকে সমুদ্র সৈকতের পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।”তিনি আরও বলেন, ইফতার শেষে প্লাস্টিক, পানির বোতল, খাবারের উচ্ছিষ্ট ও অন্যান্য বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা উচিত। তাহলেই সমুদ্রকন্যা কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন থাকবে এবং ভবিষ্যতেও মানুষ সুন্দর পরিবেশে এ ধরনের আয়োজন করতে পারবেন।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত কুয়াকাটায় প্রতিদিনের এসব সামাজিক আয়োজন সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করছে। তবে একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় সকলের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে এই সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য দীর্ঘদিন ধরে অটুট রাখতে।
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল এ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত