প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬
বগুড়ায় রিমেম্বার আস কর্তৃক ২০টি দরিদ্র ও অসহায় পরিবারকে ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ
গত ১৪ মার্চ ২০২৬ খ্রিঃ তারিখে বগুড়ার একটি যুব সংগঠন রিমেম্বার আম এর পক্ষ হতে 'রমজানের ঐ রোজার শেত্রে' শিরোনামে রমজান এবং ঈদের অনাবিল আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকার ২০ টি দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে রমজানোর শেষ দাত দিনের মাহরি ও ইফতার এবং ঈদ সামগ্রী প্রদান করা হয়।আয়োজনের অংশ হিসেবে বগুড়া শহরের নিশিন্দারা, বৃন্দাবনপাড়া, নামাজগড়, রহমাননগর, নারুনি এবং বকশিবাজার এলাকার সবমিলিয়ে ২০ টি পরিবারের মাঝে প্রতি প্যাকেজে ৭ দিনের ইফতার ও সাহরি সামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল, ঘোলা, তেল, লবণ, মুড়ি, মরিচ, পেঁয়াজ, খেজুর এবং ঈদ সামগ্রী হিদেবে সেমাই, দুধ, চিনিগুড়া চাল, চিনি ইত্যাদি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ঈদের দিন মাংস কেনার জন্য প্রতিটি পরিবারকে কিছু শুভেচ্ছা অর্থ প্রদান করা হয়। আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে প্রতিটি পরিবারের শিশু সদস্যদেরকে বাঙালির ঈদ সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ মোহদি, আতর এবং তাসবীহ উপহার দেওয়া হয়।রমজানের ঐ রোজার শেষে ক্যাম্পেইনের আযোজকদের মাঝে একজন জানান, 'আমাদের প্রত্যেকের আশেপাশেই এমন অনেক মানুষের খোঁজ পাওয়া সম্ভব যাদের দুবেলা দুমুঠো ভাত ঠিকভাবে ভাগ্যে জোটে না। সেখানে রমজান মাসের ইফতার ও সাহরি তাদের কাথে বিলাসিতার দমান। তারা হয়তো দেখা যায় পুরোটা রমআন মান খেয়ে-না যেয়ে পার করে দেন। ঈদের দিনেও তাদের ভাগ্যে হয়তোবা সেমাই-পোলাওয়ের স্বাদ জোটে না। এমন মানুষদের রমজান এবং ঈিদের আনন্দে শরিক করতেই আমাদের এই আয়োজন 'রমআনের ঐ রোজার শেষে'।"সাহায্যপ্রাপ্ত বগুড়ার বারপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা কল্পনা বেগমের পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস তার স্বামীর ঘোট তাআপোড়ার দোকান। কিছুদিন আগে নিজেদের মেয়েকে হারিয়ে শোকসন্তপ্ত নানা-নানির কাঁখে পড়েঘে মেঘের প্রতিবন্ধী সন্তানের দায়িত্ব। অপরদিকে, শহরের নারুলি এলাকার বাসিন্দা স্বামীহারা ভাগনি কোমের একমাত্র সম্বল তার একমাত্র শিশু ছেলে। নিজস্ব কোনো বসত-ভিটাও তার নেই। অন্যের জমিতে কাঁচা বাসায় তার দিন কাটে। বাসা বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে তার মাসিক আয় মন্ত্রে ২০০০ টাকা। বর্তমান বাজারের দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির পরিস্থিতিতে তার রমজানও কাটছে খেয়ে-না খেয়ে। এমনই ২০ টি পরিবারের গল্প ২০ রকম। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এর আগে এমন সহায়তা পেয়ে পরিবারগুলো পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও সাল্লাৰ প্রকাশ করেন এবং তরুণদের এমন মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।রিমেম্বার আম এর একজন তরুণ সংগঠক আনান, 'যেহেতু রমজান মাস সহানুভূতির মাস এবং আল্লাহ তায়ালা ধনী গরিবের মাঝে মহানুভূতি সৃষ্টির উদ্দেশ্য দ্বারা এই মাদকে মহিমান্বিত করেছেন, সুতরাং আমাদের সকলের উচিত এই ধরণের উদ্যোগে এগিয়ে আনা এবং এমন মানুষদেরকেও রোজা ও ঈদের আনন্দ উপভোগে সাহায্য করा।"রিমেম্বার আম এর যুব সংগঠকগণ প্রত্যাশা করছেন ভবিষ্যতে তারা আরো বেশি পরিবারকে তাদের এই আযোজনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন এবং সমাজের অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারবেন।
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল এ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত