প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬
স্বপ্নবাজ ছোট্ট রাইফা
ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি চারপাশে। অধিকাংশ মানুষ তখনো ঘুমে আচ্ছন্ন। কিন্তু এই সময়েই জেগে ওঠে এক ছোট্ট মেয়ে—তার স্বপ্ন নিয়ে, তার লক্ষ্য নিয়ে।বরগুনার আমতলী উপজেলার স্থানীয় এক সাংবাদিক কণ্যা নাম রাইফা। বয়স মাত্র সাড়ে চার বছর। এখনো কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি সে। তবে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে, কিছু খেয়ে মায়ের হাত ধরে বেরিয়ে পড়ে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।রাইফার গন্তব্য একটি ছোট্ট শিক্ষাকেন্দ্র—স্থানীয় উদ্যোগে পরিচালিত শিশু প্রাক-শৈশব বিকাশ ও শিখন কেন্দ্র। যেখানে কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে আমতলী এপি, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং এনএসএস।এত অল্প বয়সেই কেন এই আগ্রহ? কেন প্রতিদিনের এই স্কুলমুখিতা?উত্তরটা লুকিয়ে আছে তার ছোট্ট মনে গড়ে ওঠা বড় এক স্বপ্নে।রাইফা বড় হয়ে একজন পুলিশ অফিসার হতে চায়। দেশের জন্য কাজ করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তার লক্ষ্য। বয়সে ছোট হলেও, তার স্বপ্ন কিন্তু অনেক বড়।রাইফার মা রুমা জানান, ও নিজে থেকেই প্রতিদিন স্কুলে যেতে চায়। সকালে উঠে বলে—স্কুলে যাবে, বড় হয়ে পুলিশ হবে।শিশু বয়সে এমন আগ্রহ ও লক্ষ্যবোধ সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুর শেখার আগ্রহ ও স্বপ্নকে উৎসাহিত করলে তা ভবিষ্যতে তার ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।রাইফার প্রতিদিনের এই ছোট ছোট পদক্ষেপই একদিন তাকে পৌঁছে দিতে পারে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে।কারণ— স্বপ্ন দেখতে বয়স লাগে না, লাগে শুধু ইচ্ছাশক্তি, ভালোবাসা আর সঠিক দিকনির্দেশনা।রাইফার মতো এমন হাজারো শিশুর স্বপ্ন যেন ডানা মেলে উড়ে যেতে পারে—সেই প্রত্যাশাই সবার।
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল এ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত