প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
প্লেজারিজম সনাক্তকরণে Turnitin সফটওয়্যার ব্যবহারে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার মানোন্নয়ন ও প্লেজারিজম প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্লেজারিজম সনাক্তকরণ সফটওয়্যার Turnitin ব্যবহারের ওপর একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দপ্তরের আয়োজনে শহিদ সাজিদ ভবনের মিনি কনফারেন্স হলে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালাটির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন।উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন সময়োপযোগী এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের জন্য গবেষণা সেলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, Turnitin সফটওয়্যারটির কার্যকর ব্যবহার গবেষণার মানকে আরও পরিপক্ক ও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। এই কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সফটওয়্যার ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করবেন এবং গবেষণায় তা বাস্তব প্রয়োগ করতে সক্ষম হবেন। তিনি শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তারা সফটওয়্যারটির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করেন এবং এর যথাযথ সুফল গ্রহণ করেন।উপাচার্য আরও জানান, প্রতিটি বিভাগ ও অনুষদের মধ্যে যারা সফটওয়্যার ব্যবহারে সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রদর্শন করবেন, তাদেরকে বছর শেষে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে। পাশাপাশি সফটওয়্যারটির ব্যবহার কতটা কার্যকর হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণের জন্য গবেষণা সেল মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি এআই প্রযুক্তির প্রসঙ্গে বলেন, কেবল প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য তৈরি করলেই হবে না, প্রকৃত সৃজনশীলতা নিশ্চিত করতে হলে নিজস্ব জ্ঞান ও চিন্তাশক্তির বিকাশ জরুরি।গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক-এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, অতীতে প্লেজারিজম সনাক্তকরণে ব্যক্তিনির্ভরতা থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষকরা আরও সমৃদ্ধ হবেন। গবেষণার ক্ষেত্রে প্লেজারিজম সনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি এর যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সভাপতির বক্তব্যে গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, Turnitin সফটওয়্যারের ব্যাপক ব্যবহার শিক্ষকদের মানসম্মত গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, ইনস্টিটিউট, বিভাগ এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের জন্য নির্ধারিত ব্যবহারসংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং বরাদ্দকৃত সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্যও এই সফটওয়্যার ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এর মাধ্যমে গবেষণার সার্বজনীনতা নিশ্চিত হবে। এছাড়া, গবেষণায় উৎসাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভবিষ্যতে ‘বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. জুলফিকার মাহমুদ Turnitin সফটওয়্যার ব্যবহারের পদ্ধতি, এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার কৌশল এবং প্লেজারিজম সনাক্তকরণে এর গুরুত্ব ও উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা উপস্থাপন করেন।কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অংশগ্রহণ করেন।
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল এ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত