প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
কনস্টেবল আনিসের বিরুদ্ধে কালিহাতীতে ব্যাপক দৌরাত্ম্য ও চাঁদাবাজি
গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার মৌচাক পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত কনস্টেবল আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ব্যাপক দৌরাত্ম্য, চাঁদাবাজি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কালিহাতী থানায় কর্মরত থাকাকালে বিভিন্ন অসাধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মাদক ব্যবসায়ী, ইটভাটা, সমিল, ভাঙারি ব্যবসায়ী ও বিড়ি ফ্যাক্টরি মালিকদের কাছ থেকে ওসিদের নাম ভাঙিয়ে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করতেন তিনি।এদিকে, তার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে কালিহাতী থানা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোহেল শিকদার নামের তার এক সহযোগীকে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পুলিশ আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, কনস্টেবল ক/১২৯৬ বিপি-৯২১১১৩৭১৭১ আনিসুর রহমান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তিনি ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৩ জুন পর্যন্ত কালিহাতী থানায় কর্মরত ছিলেন। ওই সময়ে তিনি পর্যায়ক্রমে তিনজন ওসির বডিগার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে উপজেলার নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করতেন তিনি।স্থানীয় সূত্র জানায়, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন আনিসুর রহমান। এছাড়াও ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।অভিযোগে আরও বলা হয়, কালিহাতীতে দায়িত্ব পালনকালে ওসিদের নাম ব্যবহার করে মাদক ব্যবসায়ী, বালুমহাল, মাটি কাটার পয়েন্ট, ইটভাটা, সমিল, ভাঙারি ব্যবসায়ী ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকা প্রায় ১৮ থেকে ১৯টি বিড়ি ফ্যাক্টরি থেকে মাসিক চাঁদা আদায় করতেন তিনি। এতে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।চাঁদাবাজির পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীকে হয়রানির অভিযোগও ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, কালিহাতী থানার কনস্টেবল আরমিন সুলতানাকে বিভিন্ন সময়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেন আনিসুর রহমান। পরে ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটে ডিউটি শেষে বাসায় ফেরার পথে থানা মসজিদের পশ্চিম পাশে নির্জন সড়কে তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ওই নারী কনস্টেবল ২৬ আগস্ট টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ সুপার তাকে তিন দিনের পিডি (শাস্তি) দেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে ক্ষমা চেয়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি নেন আনিসুর রহমান।বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে কালিহাতী থেকে বদলি করা হয়। বর্তমানে তিনি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার মৌচাক পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত থাকলেও সপ্তাহের বেশিরভাগ সময় কালিহাতীর সাতুটিয়া ও পরে পৌর এলাকার বেতডোবায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বর্তমানে তিনি কালিহাতী থানার ওসি ও টাঙ্গাইলের বর্তমান পুলিশ সুপারের নাম ভাঙিয়ে আবারও চাঁদাবাজিতে জড়িয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী শান্ত ও আরিফের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে চাঁদা আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে নিরাপত্তার কারণে অনেক ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি।অভিযোগের বিষয়ে কনস্টেবল আনিসুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কালিহাতী থানা পুলিশকে নিয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে আটক সোহেল শিকদার প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, পুলিশ তাকে মারধর করে আমার নাম বলিয়েছে।এ বিষয়ে মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শামীম আহমেদ শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, আনিস নামের এক কনস্টেবল কিছুদিন আগে এখানে যোগদান করেছেন। তবে তিনি যদি কালিহাতীতে গিয়ে চাঁদাবাজি করে থাকেন, তাহলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের উচিত ব্যবস্থা নেওয়া।কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেওএম তৌফিক আজম বলেন, আনিসুর রহমান নামে এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। ইতিপূর্বে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর ঘটনায় তার এক সহযোগীকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কনস্টেবল আনিস তাকে এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত করেছিলেন।
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল এ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত