প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমানোর জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি
কসবা একটি সীমান্তবর্তী উপজেলা। এ উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ভারতীয় সীমান্তবর্তী। সীমান্তবর্তী ইউনিয়নগুলোর কিছু সংখ্যক বাচ্চা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে/ মাদ্রাসায় গিয়ে হঠাৎ পড়ালেখা থেকে দূরে সরে যায়। প্রথমে টানা কয়েকদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে। মাঝে মধ্যে আবার এক/দুই দিন স্কুলে আসে। কিন্তু তখন আর তার ভাল লাগে না। এর কারণ হতে পারে, দীর্ঘ টানা কয়েকদিন স্কুলে অনুগস্থিতির কারণে বিভিন্ন বিষয়ের পড়া থেকে দূরে যায় এবং পরে ক্লাশের নতুন পড়ার সাথে খাপ খাইতে পারে না। ফলে ক্লাশে পড়া না পারার কারণে শিক্ষকের বকুনি এবং অন্য নিয়মিত স্কুলগামী বাচ্চাদের সাথে পড়াশোনায় পেরে উঠতে না পারায় সে স্কুল ফাঁকি দিতে থাকে। আবার পরিবারে বাবা-মা অশিক্ষিত হওয়ায় অথবা আর্থিক অনটন থাকায় তারা সন্তানের লেখাপড়ার ব্যাপারে উদাসীন থাকে। অনেক পরিবারের বাবা-মা তাদের সন্তানদের পারিবারিক কাজে ব্যস্ত রাখায় তাদের সন্তানরা আস্তে আস্তে স্কুল/মাদ্রাসা এবং তাদের স্কুল/মাদ্রাসাগামী বন্ধুদের থেকে দূরে সরে যায়। আর এভাবে সে ঝরে যেতে থাকে।
সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অনেক পরিবার মাদক ও চোরাচালানের সাথে যুক্ত থাকে। একটি চালান যে কোন উপায়ে সফলভাবে বের করতে পারলে অনেক কাঁচা টাকা রাতারাতি ইনকাম করা যায়। এই মাদক ও চোরাচালান ব্যবসায়ীরা কাঁচা টাকার লোভ দেখিয়ে গরীব-অসহায় লোকদের ব্যবহার করে ভারতীয় কাঁটা তার ভেদ করিয়ে বিএসএফ এর গুলির মুখে ঠেলে দিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করে। বিনিময়ে এই গরীব-অসহায় মানুষগুলো মাত্র কয়েক ঘন্টা ডিউটি করে কয়েক দিনের রোজগার করে ফেলে। প্রথমে এগুলো করে পরিবারের বড়রা। পরিবার থেকে শিখে এই বাচ্চাগুলোও ধীরে ধীরে এই পেশায় জড়িয়ে যায়।
সবচেয়ে বিস্ময়কর এবং আশ্চর্যজনক বিষয় হল পরিবারের নারী সদস্যরা এই কুকর্মে জড়িয়ে যায় এবং তাদের পরিবারের সন্তানেরা মাদকের ব্যবসা করে এবং মাদকাসক্ত হয়ে পরিবারের জন্য মরণাস্ত্র হয়ে দাঁড়ায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে সীমান্তবর্তী শতশত পিতার মাতার আহাজারি শুনতে হয়েছে এবং তাদের সন্তানকে রিহ্যাব এবং পূর্ণবয়স্ক সাপেক্ষে জেল-হাজতে পাঠাতে হয়েছে। অথচ সামান্য কাঁচা টাকার লোভে না পড়ে তারা যদি সচেতন হয়ে কষ্ট করে তাদের সন্তানদের পড়ালেখা করাতেন তবে বর্ডার বাণিজ্য কমে যেত এবং স্কুলে ঝরে পড়া শিশুর হার কমত। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ করেছি। কিছু গরীব পরিবার যাদের সন্তানেরা স্কুলে পড়ালেখা করে তাদেরকে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গুলোতে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছি। কয়েকটি পরিবারে সেলাই মেশিন দিয়েছি যাতে এই মেশিন দিয়ে সেলাই কাজ করে সন্তানের পড়ালেখা চালিয়ে নিতে পারে। কয়েকটি পরিবারে বিভিন্ন এনজিও থেকে হাঁস-মুরগী পালন ও গবাদি পশু পালনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং নিয়মিত ঐ এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং শিক্ষকদের মাধমে তাদের সন্তানদের পড়ালেখার খোঁজ খবর নিয়েছি। সীমান্তবর্তী এলাকায় এই তদারকি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার এ এবং স্কুলে অনুপস্থিতির হার অনেকাংশে কমে গিয়েছে।
সীমান্তবর্তী স্কুল গুলোতে ঝরে পড়ার হার কমাতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। বিশেষ করে স্কুলগামী রাস্তা তৈরী এবং মেরামত, স্কুলের বাউন্ডারি তৈরি, মাঠ সংস্কার, নতুন খেলার মাঠ প্রস্তুতকরণ বাচ্চাদের স্কুলগামী করতে দারুণ ভূমিকা রেখেছে। যদি সকল বাচ্চাদের একই ড্রেস দেওয়া যায় এবং মিড ডে মিল চালু করা যায় তাহলে ঝরে পড়া শিশুর হার আরো কমানো যাবে। সেই সাথে তাদের যে উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রম চালু রয়েছে সেটি তাদের স্কুলগামী করতে অনেকাংশ ভূমিকা রাখছে।
কসবাতে বেশ কতকগুলো আশ্রয়ণ প্রকলপ রয়েছে। এখানে গরীর-অসহায় মানুষগুলো দিনের আলো ফুটলেই বের হয়ে যায় কাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল এ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত