বৃহস্পতিবার ২৩ অক্টোবর ২০২৫ সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এই সমাবেশের আয়োজন করে WE THE 99, Fight Inequality Alliance (FIA), বারসিক (উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান) এবং বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম। এটি গ্লোবাল রেড ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্ব জনসংখ্যার মাত্র ১% ধনী গোষ্ঠী বাকি ৯৯% মানুষের সম্পদ, জীবনযাত্রা ও প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করছে।
এই ১% মানুষের পরিবেশবিনাশী কার্যক্রমের ফলে জলবায়ু পরিবর্তন তীব্র হচ্ছে, স্থানীয় মানুষের সংস্কৃতি ও সম্পদ বিপর্যস্ত হচ্ছে।
তাই জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর খাদ্যব্যবস্থা পরিত্যাগ করে সবুজ, টেকসই ও প্রাণবৈচিত্র্যভিত্তিক খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ও গবেষক মো. শহিদুল ইসলাম সমাবেশে বরেন্দ্র অঞ্চল ও বাংলাদেশের পক্ষে ধারণাপত্র পাঠ করেন।
তিনি বলেন, আগামী জি-২০ সম্মেলন ও জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩০)-এ খাদ্য ও শক্তি ব্যবস্থার বৈষম্য, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং বিকল্প সবুজ সমাধানের দাবি তুলতে হবে।
তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় জ্বালানির ব্যবহার এবং বৈষম্য দূরীকরণ—এটাই আমাদের সময়ের জরুরি চ্যালেঞ্জ।”
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন কর্মী ওয়ারিউর রহমান বলেন, দিনে দিনে প্রকৃতি ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করা হচ্ছে, আমাদের খাদ্য ব্যবস্থা আমাদের সংস্কৃতির মতো করে দাঁড় করাতে হবে।
বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি শাইখ তাসনীম জামাল বলেন, যুবসমাজের লক্ষ্য একটি নিরাপদ পৃথিবী, যেখানে মানুষসহ সকল প্রাণ সুন্দরভাবে বেঁচে থাকবে।
আদিবাসী যুব নারী সাবিত্রী হেব্রম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আদিবাসীদের খাদ্যব্যবস্থা ও অধিকার সংকুচিত হচ্ছে, ধনী দেশগুলোকে এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
যুব পরিবেশকর্মী মো. হাসিবুল হাসনাত রিজভি বলেন, উন্নত দেশগুলোর পরিকল্পনার কারণে আমাদের মতো দেশের ক্ষতি হচ্ছে, তা এখনই বন্ধ করতে হবে।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ‘৯৯% অ্যাঙ্গেল’-এ দাঁড়িয়ে বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান।
গ্লোবাল ফাইট ইনইকুয়ালিটি অ্যালায়েন্সের যুব সমন্বয়ক আতিকুর রহমান আতিক ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—
১. জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক খাদ্য উৎপাদন বন্ধ করতে হবে এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
২. সবুজ জ্বালানি ও টেকসই কৃষি পদ্ধতির বিকল্প ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
৩. ক্ষুদ্র ও স্থানীয় কৃষকদের ক্ষমতায়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. পরিবেশবান্ধব নীতি ও সমতাভিত্তিক খাদ্যব্যবস্থা বাস্তবায়ন ও প্রচার করতে হবে।
৫. আসন্ন জি-২০ সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি ভর্তুকি কমিয়ে সবুজ জ্বালানি ও টেকসই পদ্ধতির নীতি গ্রহণ করতে হবে।
৬. বৈশ্বিক ৯৯% মানুষের অধিকার ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় ধনী দেশগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, এখনই জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর খাদ্যব্যবস্থা পরিবর্তন না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও বড় সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন