দীর্ঘ পাঁচ মাস শয্যাশায়ী অবস্থায় থাকা ৮০ বছর বয়সী রোজেলা হাজংয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, কেন্দ্রীয় বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব। তার উদ্যোগে ও দলের স্থানীয় টিমের সমন্বয়ে ৭ ডিসেম্বর রোজেলা হাজংকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোজেলা হাজং নেত্রকোনার দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের মেনকি ঢাকাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই নারী গত পাঁচ মাস ধরে পুরোপুরি বিছানায়। তার একমাত্র ছেলে আবার মানসিক ভারসাম্যহীন—ফলে শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থায় রাখতে হয় অধিকাংশ সময়। এমন মানবিক ও সামাজিক সংকটে থাকা রোজেলার চিকিৎসার সুযোগ প্রায় শূন্য পর্যায়ে নেমে এসেছিল।
৮ নভেম্বর লেংগুড়া ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে বাঁশের তৈরি চাঙ্গারী বেয়ে দুইজন গ্রামবাসী তাকে কাঁধে করে নিয়ে আসে। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা বলেন রোজেলার জরুরি অপারেশন প্রয়োজন। কিন্তু স্থানীয় অঞ্চলে উন্নত সার্জিক্যাল সেবার অভাব থাকায় দ্রুত রেফারাল জরুরি হয়ে পড়ে।
ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মানবিক হস্তক্ষেপ
দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুর-কলমাকান্দা এলাকায় দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য কাজ করছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রোজেলার বিষয়টি জানার পরই তিনি চিকিৎসার দায়িত্ব নেন এবং দ্রুত হাসপাতাল ভর্তি করার উদ্যোগ নেন।
তার নির্দেশনা ও আর্থিক সহায়তায় টিমের সদস্যরা ৭ ডিসেম্বর সকালে রোজেলাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং শিগগিরই অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন,
গারো পাহাড়ের কোলঘেঁষা এই অঞ্চলের মানুষ—বিশেষ করে হাজং সম্প্রদায়—বহু বছর ধরে স্বাস্থ্যসেবার বঞ্চনায় ভুগছেন। একজন মানুষও যেন চিকিৎসার অভাবে কষ্ট না পায়, সেটাই আমার অঙ্গীকার। আমরা দলীয় বিভাজন নয়, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্গাপুর-কলমাকান্দা অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা এখনো নাগরিক মানের বাইরে। বিশেষ করে আদিবাসী জনগোষ্ঠী—হাজং, গারো ও অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা চিকিৎসা, পুষ্টি ও মৌলিক সুবিধা থেকে বহু দূরে। রোজেলা হাজংয়ের ঘটনা এই সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
অনেকে বলেন, চিকিৎসার অভাবে এই অঞ্চলে এমন অসহায় মানুষের সংখ্যা কম নয়। বয়স্করা তো বটেই, তরুণরাও অনেক সময় চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।”
ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা
রোজেলার চিকিৎসায় সহযোগিতা পেয়ে স্থানীয়রা ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ধারা অব্যাহত থাকবে।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আরও বলেন—
আমরা জনগণের জন্য কাজ করছি। আপনারা আমাদের পাশে থাকলে মানবতার এই পথ আরও বিস্তৃত হবে। আল্লাহ চাইলে আমরা একে একে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবো।
আপনার মতামত লিখুন