নুরুল হক নূর বলেন, 'সোস্যাল মিডিয়ায় নানা জনে নানান কথা বলেন। গণ অধিকার দুই সিটে সমঝোতা হয়নি। সময় হলে দেখবেন জিএনপি আমাদের কোন জায়গায় কিভাবে মূল্যায়ন করে। সময় হলে আপনারা সব জানতে পারবেন। আমরাও তারেক রহমানকে চিনি জানি- তিনি কথা দিলে কথা রাখেন। তার সাথে আমাদের কী কমিটমেন্ট হয়ে তা আমরা পাবলিকলি বলব না। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম থেকে আমরা বিএনপি শীর্ষ নেতাকর্মী থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক। আগামীতে একটা নির্বাচিত সরকার আসলেও সেই সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন অরাজনৈতিক প্লাটফর্মে নানান ধরণের আন্দোলন সংগ্রাম করে দেশকে অস্থিতিশীল করবে। ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করবে। আমাদেরকে এগিয়ে যেতে দিবে না। দেশ একটা সঙ্কটের মধ্যে পারবে।'
শনিবার রাত ৯ টায় বিএনপির একাংশ নিয়ে গলাচিপা বিএনপি অফিসে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে নুরুল হক নুরকে জয়ী করার জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহরাব মিয়া, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা ইখতিয়ার কবির, পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিপলু খান, গলাচিপা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর রফিক খান, যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক মো শাবুদ্দিন সিকদার এবং আন্তর্জাতিক সম্পাদক কেন্দ্রীয় কমিটি গণঅধিকার পরিষদখাইরুল আমিন, গণ অধিকার পরিষদের গলাচিপা উপজেলা আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, সদস্য সচিব জাকির মুন্সি, জেলা সাবেক সদস্য সচিব শাহ আলম, ছাত্র অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আবু নাঈম প্রমুখ।
নুর আরো বলেন, 'কিছুদিন আগে আমাদের আন্দোলন সংগ্রামের একজন সৈনিক ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে দিবালোকে গুলি করে হত্যা করেছে। তার হত্যার প্রতিবাদে সারাদেশের মানুষ ফুসে উঠেছিল। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের দুটো প্রথম সারি পত্রিকা ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো অফিস জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা- বিপথগামীরা। এই ঘটনা যদি আরো দুই একদিন চলতো তখন কেউ কেউ টেলিভিশনে ঘোষণা দিয়ে বলতো- দেশ আজ গভীর সঙ্কটে আমরা দায়িত্ব নিতে বাধ্য হচ্ছি। নির্বাচন হলেই যে সঙ্কট কেটে যাবে তা নয়। তাই আমরা মনে করি আমরা যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছি তাদের দায়িত্ব আমরা আলাপ আলোচনা করে যে ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের ঘো দিয়েছিলাম সেটার পূর্ণাঙ্গ বাস্তাবায়ন আগামী পাচ বছরে একটি স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত করে দেশের উন্নয়ন মানুষের নিরাপত্তা এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরা। যাতে বিশ্ব বিনিয়োগ করে যাতে আমাদেএ দেশকে সবাই নিরাপদ মনে করে। তাই আমরা মনে করছি এই মুহূর্তে বিএনপি ব্যতিত কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসে দেশকে চালাতে পারবে না। দেশকে স্থিতিশীল রাখতে পারবে না। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে কী পেলাম। আমার দল কয়েকটি সিট পেলো এর চেয়ে আমাদের কাছে প্রাধান্য দেশের মানুষের দেশকে রক্ষা করা, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। তাই আজকে এখানে ভাগ বাটোয়ারা চাওয়া পাওয়ার কোন বিষয় নয়। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিএনপিকে আগামীতে ক্ষমতায় বসাতে হবে। '
এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্র দলের সাবেক সহসভাপতি ইখতিয়ার কবির বলেন, হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশে যারা ভূমিকা রেখেছিলো তাদের মধ্যে অন্যতম ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর। নুরুল হক নুরকে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আপনারা যারা দীর্ঘ দিন দল করেন সবার কাছে আমার অনুরোধ থাকবে দলের সিদ্ধান্ত আমাদের মানতে হবে। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। কিন্তু যারা দীর্ঘ দিন দল করে, মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছে তাই তাদের মনকষ্ট থাকতে পারে। আমরা যেন কাউকে উস্কানিমূলক কথা না বলি। বিশেষ করে গণ অধিকারের ভাইদের অনুরোধ করছি আমাদের চেয়ে আপনাদের বেশি সহনশীল হতে হবে। কারণ আপনাদের নেতা মনোনয়ন পেয়েছে আমাদের নেতা মনোনয়ন পাননি। আপনারা ফেইজবুকে নানা ধরণের উল্টাপাল্টা কথা বলেন এটা মোটেই কাম্য নয়। যারা মনকষ্ট পেয়েছে তারা কথা বলবেই। অচিরেই দেশ নায়ক তারেক রহমান নির্দেশ দিবেন। আমরা যারা গলাচিপা দশমিনায় বিএনপি করি সবাই নুরুল হক নুরের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করব।
আপনার মতামত লিখুন