আড়াইহাজার উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের বাড়িঘরে বিএনপি সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের চেষ্টা, লুটপাট ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় একাধিক জামায়াত কর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয় থেকে ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের বড়াইপাড়া গ্রামে এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, উচিৎপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আনোয়ার হোসেনের নির্দেশ ও পরিকল্পনায়, মো. নূর মোহাম্মদ (পাগলা মাস্তান), ইউনুছ, সুজন (ফালাইন্না) ও জয়নালের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্র ও বোমা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী কর্মী মো. কবির হোসেনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে, বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে।
হামলার সময় কবির হোসেনসহ জামায়াত কর্মী মো. তাজুল ইসলাম, মো. নাজমুল ইসলাম, মূসা মিয়া, সানাউল্লাহ ও মো. ফারুক হোসেন—এর মাথা, ঘাড় ও পিঠে দেশীয় অস্ত্রের কোপে মারাত্মক জখম হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হামলার আগে একই দিন সকালে বিএনপি নেতা এডভোকেট আনোয়ার হোসেন নিজে কবির হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তাকে জামায়াতে ইসলামী ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিতে এবং দাঁড়িপাল্লা মার্কার পরিবর্তে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে চাপ দেন। কবির হোসেন এতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর ও জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন,
“দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে জনগণ আর কোনো সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিবাদী আচরণ দেখতে চায় না। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসী তৎপরতায় আজ জনগণ আতঙ্কিত।”
তারা বলেন, জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে নারী-মা-বোনদের লাঞ্ছিত করা, হুমকি দেওয়া এবং কর্মীদের বাড়িঘরে হামলার মতো ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার যেখানে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলছে, সেখানে বিএনপির সন্ত্রাসীরা প্রায় প্রতিদিন জামায়াত কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং দল ত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিএনপির এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় ধরনের প্রতিবন্ধক। অতীতেও একাধিকবার সংসদ সদস্য প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
জামায়াতে ইসলামী অবিলম্বে এই হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নির্বাচনী পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন