পুলিশের পোশাক পরে মহাসড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মারগুব তৌহিদকে ক্লোজড করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এক জরুরি আদেশে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
ঘটনার মূল বিষয়: ‘ভাগিনা নাঈম’ সিন্ডিকেট
সম্প্রতি গণমাধ্যমে ‘পুলিশের পোশাকে চাঁদা তোলেন ভাগিনা নাঈম’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে উঠে আসে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে এক ভয়াবহ চাঁদাবাজি চক্রের তথ্য।
পোশাকের অপব্যবহার: পরিদর্শক মারগুব তৌহিদের ভাগনে নাঈম হাসান খোদ পুলিশের পোশাক পরে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করতেন এবং চালকদের ভয়ভীতি দেখাতেন।
টোকেন বাণিজ্য: মহাসড়কে চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট প্রতীকের মাসিক ‘টোকেন’ বাধ্যতামূলক করেছিল এই চক্র। টোকেন না থাকলে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও চালকদের মামলা ও রিকুইজিশনের নামে হয়রানির শিকার হতে হতো।
শারীরিক নির্যাতন: ‘ভাগিনা নাঈম’-এর কথা না শুনলে চালকদের মারধর ও লাঞ্ছিত করার মতো গুরুতর অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে আসে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটি: অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে হাইওয়ে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও পরিবহন শ্রমিক নেতারা একে ‘পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চরম উদাহরণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুকুজ্জামান বলেন, "দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াটা ইতিবাচক, তবে টোকেন বাণিজ্যের পেছনের পুরো চক্রকে নির্মূল না করলে চালকদের শঙ্কা কাটবে না।"
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে ওই সড়কের চেকপোস্টগুলোতে বিতর্কিত কার্যক্রম কিছুটা থিতিয়ে এসেছে। তবে পুলিশের এই শুদ্ধি অভিযান শেষ পর্যন্ত কতটুকু কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
আপনার মতামত লিখুন