বরগুনার আমতলী উপজেলায় পাচারকারীদের হাত থেকে বিলুপ্তপ্রায় ৬টি মেছো বিড়াল (ফিশিং ক্যাট) উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বন্য প্রাণী গুলোর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক মেছো বিড়াল এক জোড়া এবং চারটি ছানা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিবেশবাদী ও বনকর্মী টি এম রেদওয়ান বায়েজীদ জানতে পারেন যে, একটি পাচারকারী চক্র তালতলী উপজেলার টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকা থেকে ফাঁদ পেতে ৬টি মেছো বিড়াল ধরে আমতলী মানিকঝুড়ি বাসস্ট্যান্ড হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছে।
উক্ত ঘটনার সময় বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দূরে অবস্থান করায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও উদ্ধারে দীর্ঘদিন কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন টি এম রেদওয়ান বায়েজীদ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে খাঁচাবন্দি অবস্থায় প্রাপ্তবয়স্ক
এক জোড়া মেছো বিড়াল এবং চারটি ছানা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় পাচারকারী চক্রের কয়েকজন সদস্য রেদওয়ান বায়েজীদের ওপর লাঠি দিয়ে হামলা চালিয়ে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে আমতলীর রাসূলপুর স্ট্যান্ড সংলগ্ন প্রাকৃতিক বন ও জলাভূমি এলাকায় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা মেছো বিড়াল প্রাপ্তবয়স্ক এক জোড়া ও চারটি ছানাকে অবমুক্ত করা হয়। উপকূলীয় বন বিভাগ পটুয়াখালী কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. মোঃ জাহিদুর রহমান মিয়া
জানান, মেছো বিড়াল একটি বিপন্ন বন্যপ্রাণী, যা সাধারণত নদী, খাল, বিল ও জলাভূমি এলাকায় বসবাস করে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অবৈধ শিকার ও হত্যার কারণে প্রজাতিটি বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণী শিকার, আটক বা পাচার দণ্ডনীয় অপরাধ।
পরিবেশবিদ টি এম রেদওয়ান বায়েজীদ বলেন, “বন ও বন্যপ্রাণী আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার রোধে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।”
আপনার মতামত লিখুন