কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের হাজরাদি গ্রামে তুচ্ছ মেহগনি গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তার পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সন্ত্রাসীদের ধারালো দায়ের কোপে মোঃ সোহাগ মিয়া (৩২) নামে এক যুবক গুরুতর জখম হয়েছেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে শ্লীলতাহানি ও হামলার শিকার হয়েছেন তার বৃদ্ধা মা ও বোন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সোহাগ মিয়ার পৈতৃক জায়গায় প্রতিবেশী মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলেদের একটি মেহগনি গাছ দীর্ঘ দুই বছর ধরে একটি ফলন্ত আম গাছের ওপর হেলে ছিল। সোহাগ মিয়া বারবার গাছটি সরানোর অনুরোধ করলেও বিবাদী মাসুদ মিয়া ও মোস্তফারা কালক্ষেপণ করতে থাকে। উল্টো গাছ কাটার কথা বললে সোহাগ ও তার পরিবারকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো।
বর্বরোচিত হামলা ও জখম গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর ১২টার দিকে সোহাগ মিয়া পুনরায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে বিবাদীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১নং বিবাদী মাসুদ মিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো দা দিয়ে সোহাগের মাথার মাঝখানে স্বজোরে কোপ মারলে তিনি গুরুতর হাড়কাটা রক্তাক্ত জখম হন।
সোহাগ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অন্য বিবাদীরা লোহার রড দিয়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাড়ভাঙ্গা জখম করে। এ সময় সোহাগের চিৎকার শুনে তার মা রাহিমা খাতুন ও বোন হাওয়া বেগম এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের চুলের মুঠি ধরে টেনে-হিঁচড়ে শ্লীলতাহানি করে এবং কাপড়-চোপড় ছিঁড়ে ফেলে মাটিতে ফেলে দেয়। ৫ ও ৬নং বিবাদীসহ অন্যরা তাদের কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে।
উদ্ধার ও চিকিৎসা স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সুরুজ মিয়া ও আঃ করিমসহ প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে এবং হামলাকারীদের কবল থেকে রক্ষা করেন। সোহাগ মিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার মাথায় দুটি সেলাই দিতে হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আইনি পদক্ষেপ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সোহাগ মিয়া বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন— মোঃ মাসুদ মিয়া (৩৪), মোঃ মোস্তফা (৪৫), হারিছ মিয়া পিতা মৃত আব্দুর রাশিদ (৪৫) মোঃ সিরাজ মিয়া (৬৫), জেসমিন আক্তার (৩৮), উর্মি আক্তার (২৯) ও মোছাঃ রাবিয়া খাতুন (৪৫)।
ভুক্তভোগী সোহাগ মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার জায়গায় তাদের গাছ পড়ায় আমার ফসলের ক্ষতি হচ্ছিল। সেটি সরাতে বলায় তারা আমাকে খুনের চেষ্টা করেছে। আমার বৃদ্ধা মা আর বোনকেও তারা ছাড়েনি। আমি প্রশাসনের কাছে এই সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।" কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন