নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় সংঘটিত একটি কথিত ধর্ষণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘মিথ্যা ন্যারেটিভ’ তৈরি করে প্রপাগাণ্ডা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ৮টায় নোয়াখালী জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, হাতিয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মহল, বিশেষ করে এনসিপির নেতারা, জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভুয়া তথ্য প্রচার করে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ঘটনাটি সাজানো বা অতিরঞ্জিত, তাহলে মিথ্যা তথ্য প্রচার ও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”
মানবিক ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করাকে অনৈতিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আগে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।
এদিকে, হাদি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গ টেনে নাছির উদ্দীন নাছির অভিযোগ করেন, এই ঘটনায় প্রকৃত খুনিদের বিচারের দাবিতে জামায়াত-শিবির ও এনসিপি নেতাদের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা ছিল না। বরং তারা এখন রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে।
তিনি বলেন, “হাদি হত্যার মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিশেষ করে জামায়াত-শিবির ও এনসিপি সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি এটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া কিছু দল বিএনপির সিনিয়র নেতা মির্জা আব্বাসের নাম জড়িয়ে অপপ্রচার চালিয়েছে, যা শুধু রাজনৈতিক অসততাই নয়, বরং বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা।
নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই- হাদি হত্যার বিচার অবশ্যই হতে হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নাটক মঞ্চস্থ করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।”
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ভবিষ্যতে যদি কোনো রাজনৈতিক দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ায় বা বিএনপির নেতাদের নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নোয়াখালী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, জেলা বিএনপির সদস্য রবিউল হাসান পলাশ, সদস্য আবদুল মোতালেব আপেল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
আপনার মতামত লিখুন