টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনী বার্তা ঘিরে দ্বিগুণ উৎসব, চার স্তরের নিরাপত্তা জোরদার। শহর জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ-এর আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তারেক রহমান-এর আগমনবার্তা। ফলে জেলার সর্বত্র বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইল সফরে আসছেন তারেক রহমান। সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি প্রথমে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম-এ কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণের মাধ্যমে দেশব্যাপী কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন এবং কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। পরে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান-এ কৃষিমেলার উদ্বোধন করবেন।
এ সফরকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়ামে বিশাল মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শহরের প্রধান সড়ক, কৃষি মেলা প্রাঙ্গণ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চলছে সাজসজ্জা। হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে দুটি হেলিপ্যাড, যদিও সড়কপথে আগমনের সম্ভাবনাই বেশি বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে সমাবেশস্থল পরিদর্শন ও কাজের অগ্রগতি দেখতে যান কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।প
রিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, দেশের প্রায় সত্তরভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন হলেই দেশ ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃষক যেন ন্যায্য মূল্য ও অধিকার পান এই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে এই কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়ায় দিনটি দ্বিগুণ তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন, অন্যদিকে দেশের প্রথম কৃষক কার্ড কর্মসূচির যাত্রা- যা টাঙ্গাইলসহ সারা দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।
মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১টি স্থানে ‘প্রি-পাইলটিং’ হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে। পরে পাইলটিং ও পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় চার বছর সময় লাগতে পারে।এ
সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, জেলা প্রশাসক শরীফা হক, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত জেলার সর্বস্তরের মানুষ। টাঙ্গাইলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পরিত্যক্ত এয়ারপোর্টটি পুনরায় চালু করা এবং যমুনা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ। কৃষক সমাবেশে প্রিয় নেতার মুখ থেকে এসব জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আশাব্যঞ্জক ঘোষণার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন জেলাবাসী। শহিদ মারুফ স্টেডিয়াম, কৃষি মেলা, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারসহ শহরজুড়ে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শোভাবর্ধনের কাজ। স্টেডিয়ামে মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চার স্তুরের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা ইউনিটসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা তৎপর রয়েছেন। তারা বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন।
প্রিয় নেতাকে দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন বিএনপির নেতাকর্মীরাও। জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ ও শফিকুর রহমান খান জানান, টাঙ্গাইলকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত, শহরের পরিত্যাক্ত এয়ারপোর্ট চালু, যমুনা নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ, ভাসানী হল পুনঃনির্মাণ, সরকারি সা’দত কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি সহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে নানা দাবি জানানো হবে।
জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন জানান, টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার গোড়াই থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করা হবে। তারা খুব আনন্দিত। ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে যাচ্ছে টাঙ্গাইল।
সফরসূচি অনুযায়ী, তারেক রহমান মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলে পৌঁছে প্রথমে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন। সাড়ে ১০টায় জেলা স্টেডিয়ামে কৃষকদের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘প্রি পাইলটিং’ এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সেখানে কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন তিনি। ভাষণ শেষে পৌর উদ্যানে কৃষিমেলার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের মোট এক হাজার ৪৭০ জন ‘কৃষক কার্ড’ পাচ্ছেন। এরমধ্যে একশ’ জন কৃষক প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থলে উপস্থিত থাকবেন। আর ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রথানমন্ত্রী সরাসরি আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড তুলে দিবেন। এদিকে, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দিচ্ছে না প্রশাসন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় চার স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় কাজ করছে। সব মিলিয়ে নববর্ষের প্রথম প্রভাতে প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত টাঙ্গাইল।
আপনার মতামত লিখুন