ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় সরিষা ক্ষেতে আধুনিক পদ্ধতিতে মধু চাষ নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে কৃষকদের জন্য। উপজেলার আতুকুড়া গ্রামে দুইটি স্পট ও ধরমন্ডল এলাকায় সরিষা ক্ষেতে পর্যায়ক্রমে মোট ৫০০টি মৌবাক্স স্থাপনের মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মৌচাষি ও উদ্যোক্তা শেখ যোবায়ের জানান, চলতি মৌসুমে মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ মণ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও জানান, বিসিক ও উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় তারা মৌচাষ বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। মৌমাছি রোগাক্রান্ত হলে কিংবা রাণী মারা গেলে কৃষি অফিস থেকে দ্রুত কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
সরজমিনে দেখা যায়, সরিষা ফুলে ভরা বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করা মৌবাক্সে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর পরিবেশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, মধু উৎপাদনের পাশাপাশি মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন জানান, মৌমাছির মাধ্যমে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে পরাগরেণু স্থানান্তর হওয়ায় সরিষার উৎপাদন সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষি অফিস থেকে ৫০টি মৌবাক্স তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন খামার পরিদর্শন করে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাসরিন বলেন, মধু চাষের মাধ্যমে কৃষকরা ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
উৎপাদিত মধু স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় মধু সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরিষা চাষি শেখ সোবহান ও আউয়াল মিয়া জানান, মৌমাছির পরাগায়নের কারণে সরিষার ফলন বাড়ছে এই প্রত্যাশা তাদের নতুন করে চাষে উৎসাহিত করছে। তারা মনে করেন, এ উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
আপনার মতামত লিখুন