ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে সরিষা চাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা যাচ্ছে। কম পানিনির্ভর ও লাভজনক হওয়ায় এ বছর সরিষা আবাদে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ৫ হাজার ৯০৮ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে。
উপজেলার সবকটি ইউনিয়নেই সরিষা চাষ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪ হাজার কৃষকসহ মোট প্রায় ৭ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত জাতের সরিষার বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণকৃত বীজের মধ্যে বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৭, বারি সরিষা-২০ ও বিনা-৯সহ বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাত রয়েছে。
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আতুকুড়া গ্রামের কৃষক শেখ সোবহান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা সরিষা চাষ করছি। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চাপড়তলা গ্রামের কৃষক খাইরুল মিয়া বলেন, কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ পেয়েছি। বাজারে সরিষার দামও ভালো থাকায় এবছর লাভবান হওয়ার আশা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন বলেন, সরিষা চাষের মাধ্যমে কৃষকরা নিজেদের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন। পাশাপাশি উদ্বৃত্ত সরিষা বিক্রি করে বাড়তি আয় হচ্ছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন এবং জাতীয় পর্যায়েও ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও জানান, পূর্বে অধিকাংশ কৃষক ধান চাষে নির্ভরশীল থাকলেও পর্যাপ্ত সেচ সুবিধার অভাবে চলতি মৌসুমে কম পানিনির্ভর ও লাভজনক ফসল হিসেবে সরিষার দিকে ঝুঁকছেন।
কৃষি বিভাগ আশা করছে, ভবিষ্যতে সরিষা চাষের আওতা আরও বৃদ্ধি পেলে দেশ ভোজ্য তেল উৎপাদনে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে যাবে।
আপনার মতামত লিখুন