চ্যানেল এ
লিংক কপি হয়েছে!
আপনি কি আগের জায়গা থেকে পড়া শুরু করতে চান?
×

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

লোডিং...
শুভ দুপুর, প্রিয় পাঠক!

মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের রাজত্ব ও পুলিশের তাচ্ছিল্য—কিশোরগঞ্জ স্টেশনে জিম্মি সাধারণ যাত্রী



মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের রাজত্ব ও পুলিশের তাচ্ছিল্য—কিশোরগঞ্জ স্টেশনে জিম্মি সাধারণ যাত্রী

ফেসবুক প্রতিক্রিয়া

লাইক এবং শেয়ার দেখুন
সংবাদের বিষয়সূচি

    বাংলাদেশ রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী কিশোরগঞ্জ রুটে এখন আর যাত্রী সেবার চিহ্ন নেই। এখানে চলছে মাদক, চাঁদাবাজি আর ‘পুলিশি প্রহরায়’ টিকিটবিহীন যাত্রী পরিবহনের মহোৎসব। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, স্টেশনের ভেতরে খোদ পুলিশ সদস্যদের চোখের সামনেই চলছে মরণনেশা ইয়াবার কারবার, অথচ তারা কেবল টাকার নেশায় মত্ত।

    ​অনুসন্ধানকালে আমাদের র্টিম  যখন প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করছিলেন, তখন দেখা যায় কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের লোকেরা প্রকাশ্য দিবালোকে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করছে। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্য—কনস্টেবল সোহেল এবং সিনিয়র কনস্টেবল জামাল উদ্দিনকে অবহিত করা হলেও তাদের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক।

    ​ মাদক বিক্রির তথ্য দেওয়ার পর তারা সাংবাদিকদের বলেন, "আপনারা আগে যান, আমরা আসছি।" কিন্তু পরবর্তীতে সাংবাদিকরা মাদক কারবারিকে হাতেনাতে ধরলেও ওই দুই কনস্টেবল ঘটনাস্থলে আসেননি।

    ​হুমকি ও পুলিশের তাচ্ছিল্য: একপর্যায়ে মাদক কারবারিরা সাংবাদিকদের সাথে তর্কে লিপ্ত হয় এবং পকেট থেকে সুইচ গিয়ার (ছুরি) বের করে হামলার চেষ্টা চালায়। পুনরায় পুলিশ সদস্যদের বিষয়টি জানানো হলে তারা চরম অপেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে বলেন— "হ্যান্ডকাপ আছে, পারলে আপনারাই ধরে থানায় নিয়ে যান"। এই বলে তারা দায়িত্ব এড়িয়ে চলে যান। এই ঘটনায় নেটিজেনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ওই দুই কনস্টেবলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।

    ​ টিকিটহীন যাত্রী ও ‘৩০০-৪০০’ টাকার গোপন চুক্তি

    ​স্টেশনের পুলিশ বক্স ও তথ্য কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে পুলিশ সদস্যদের খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হলেও, ট্রেন প্ল্যাটফর্মে আসামাত্রই তাদের 'তৎপরতা' বহুগুণ বেড়ে যায়।

    ​গেট থেকেই যাত্রী শিকার: কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত সিট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পুলিশ সদস্যরা ৩-৪ জন যাত্রী নিয়ে গ্রুপ তৈরি করেন।

    ​টাকা লেনদেন: সরকারি টিকিটের তোয়াক্কা না করে মাথাপিছু ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার বিনিময়ে এই যাত্রীদের ট্রেনে তুলে দেওয়া হয়। এই টাকার কোনো রসিদ বা সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার প্রমাণ মেলেনি।

    ​এই ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা নিয়ে মুখ খুলেছেন খোদ স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

    ​স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমান জানান: "বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য। কতিপয় কিছু পুলিশ সদস্য গেটের মুখ থেকেই ৪-৫ জন যাত্রী একসাথে করে (অবৈধভাবে) নিয়ে যায়। গতকাল আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রত্যেকের টিকিট চেক করেছি যাতে এই অনিয়ম ঠেকানো যায়।"

    ​এদিকে, পুলিশের এই বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) মো. বাহাউদ্দিন ফারুকীর সাথে কথা বলতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। সাব ইন্সপেক্টর (SI) শাহজাহান বিষয়টি শুনে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। এবং সাংবাদিকদের বলেন , ওসি মহোদয়,

    অফিসের কাজে দুই দিনের জন্য বাইরে আছেন। তবে জনমনে বড় প্রশ্ন—নিচের স্তরের পুলিশ সদস্যদের এই ওপেন চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্টতা কি ওসির অগোচরে হচ্ছে, নাকি তিনি দেখেও না দেখার ভান করছেন?

    ​কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্য। সাধারণ যাত্রীরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। কনস্টেবল সোহেল ও জামাল উদ্দিনের মতো কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এবং মাদক সম্রাট জাহাঙ্গীরের সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

    এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?
    👍
    লাইক
    ❤️
    ভালোবাসি
    😂
    হা হা
    😮
    ওয়াও
    😢
    দুঃখজনক
    খবরটি রেটিং দিন
    গড় রেটিং: 4.8/5 (142 ভোট)
    Google News

    গুগল নিউজে ফলো করুন

    সবার আগে সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

    Follow

    হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে যুক্ত হোন

    খবরের সব আপডেট সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে যুক্ত থাকুন

    Join Now

    প্রতিবেদক, চ্যানেল এ

    তিনি নিয়মিত রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    আপনার মতামত লিখুন

    Loading...

    পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...

    চ্যানেল এ

    রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬


    মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের রাজত্ব ও পুলিশের তাচ্ছিল্য—কিশোরগঞ্জ স্টেশনে জিম্মি সাধারণ যাত্রী

    প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬

    featured Image

    বাংলাদেশ রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী কিশোরগঞ্জ রুটে এখন আর যাত্রী সেবার চিহ্ন নেই। এখানে চলছে মাদক, চাঁদাবাজি আর ‘পুলিশি প্রহরায়’ টিকিটবিহীন যাত্রী পরিবহনের মহোৎসব। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, স্টেশনের ভেতরে খোদ পুলিশ সদস্যদের চোখের সামনেই চলছে মরণনেশা ইয়াবার কারবার, অথচ তারা কেবল টাকার নেশায় মত্ত।

    ​অনুসন্ধানকালে আমাদের র্টিম  যখন প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করছিলেন, তখন দেখা যায় কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের লোকেরা প্রকাশ্য দিবালোকে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করছে। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্য—কনস্টেবল সোহেল এবং সিনিয়র কনস্টেবল জামাল উদ্দিনকে অবহিত করা হলেও তাদের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক।

    ​ মাদক বিক্রির তথ্য দেওয়ার পর তারা সাংবাদিকদের বলেন, "আপনারা আগে যান, আমরা আসছি।" কিন্তু পরবর্তীতে সাংবাদিকরা মাদক কারবারিকে হাতেনাতে ধরলেও ওই দুই কনস্টেবল ঘটনাস্থলে আসেননি।

    ​হুমকি ও পুলিশের তাচ্ছিল্য: একপর্যায়ে মাদক কারবারিরা সাংবাদিকদের সাথে তর্কে লিপ্ত হয় এবং পকেট থেকে সুইচ গিয়ার (ছুরি) বের করে হামলার চেষ্টা চালায়। পুনরায় পুলিশ সদস্যদের বিষয়টি জানানো হলে তারা চরম অপেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে বলেন— "হ্যান্ডকাপ আছে, পারলে আপনারাই ধরে থানায় নিয়ে যান"। এই বলে তারা দায়িত্ব এড়িয়ে চলে যান। এই ঘটনায় নেটিজেনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ওই দুই কনস্টেবলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।

    ​ টিকিটহীন যাত্রী ও ‘৩০০-৪০০’ টাকার গোপন চুক্তি

    ​স্টেশনের পুলিশ বক্স ও তথ্য কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে পুলিশ সদস্যদের খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হলেও, ট্রেন প্ল্যাটফর্মে আসামাত্রই তাদের 'তৎপরতা' বহুগুণ বেড়ে যায়।

    ​গেট থেকেই যাত্রী শিকার: কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত সিট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পুলিশ সদস্যরা ৩-৪ জন যাত্রী নিয়ে গ্রুপ তৈরি করেন।

    ​টাকা লেনদেন: সরকারি টিকিটের তোয়াক্কা না করে মাথাপিছু ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার বিনিময়ে এই যাত্রীদের ট্রেনে তুলে দেওয়া হয়। এই টাকার কোনো রসিদ বা সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার প্রমাণ মেলেনি।

    ​এই ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা নিয়ে মুখ খুলেছেন খোদ স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

    ​স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমান জানান: "বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য। কতিপয় কিছু পুলিশ সদস্য গেটের মুখ থেকেই ৪-৫ জন যাত্রী একসাথে করে (অবৈধভাবে) নিয়ে যায়। গতকাল আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রত্যেকের টিকিট চেক করেছি যাতে এই অনিয়ম ঠেকানো যায়।"

    ​এদিকে, পুলিশের এই বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) মো. বাহাউদ্দিন ফারুকীর সাথে কথা বলতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। সাব ইন্সপেক্টর (SI) শাহজাহান বিষয়টি শুনে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। এবং সাংবাদিকদের বলেন , ওসি মহোদয়,

    অফিসের কাজে দুই দিনের জন্য বাইরে আছেন। তবে জনমনে বড় প্রশ্ন—নিচের স্তরের পুলিশ সদস্যদের এই ওপেন চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্টতা কি ওসির অগোচরে হচ্ছে, নাকি তিনি দেখেও না দেখার ভান করছেন?

    ​কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্য। সাধারণ যাত্রীরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। কনস্টেবল সোহেল ও জামাল উদ্দিনের মতো কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এবং মাদক সম্রাট জাহাঙ্গীরের সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।


    চ্যানেল এ

    মোবাইল নাম্বারঃ +8801602460060

    Email: hr.channela@gmail.com
    বিজ্ঞাপনঃ +8801602460060
    info@channelabd.com


    কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল এ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
    App Icon
    অ্যাপ ইন্সটল করুন

    দ্রুত এবং সহজে খবর পড়তে আমাদের অ্যাপটি ব্যবহার করুন।

    সর্বশেষ খবরের আপডেট চান?

    সবার আগে ব্রেকিং নিউজ এবং গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।