কসবা সীমান্তে বিএসফের গুলিতে ২ বাংলাদেশী নিহত !! পতাকা বৈঠকের মাধ্যেমে লাশ হস্তান্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। বিকেল পতাকা বৈঠকের মাধ্যেমে বিজিবির নিকট লাশ হস্থাস্তর করেছে বিএসএফ। এ ঘটনায় আরও ২০ জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর এলাকার পাথারিয়াদ্বার-মানিক্যমুড়ি সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুই যুবক হচ্ছে; গোপিনাথপুর আলহাজ্ব শাহআলম ডিগ্রি কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ধজনগর বাতানবাড়ি গ্রামের মোঃ হেবজু মিয়ার ছেলে মুরসালিন মিয়া (১৯) এবং মধুপুর গ্রমের মৃত মরম আলীকে ছেলে নবির হোসেন (৪০) । আজ শনিবার (৯ মে) বিকেলে পতাকা বৈঠকের মাধ্যেমে বিজিবির নিকট লাশ হস্থাস্তর করেছে বিএসএফ। বিকেল পাঁচটায় দু'দেশের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিএসএফের গড়িমসিতে পতাকা বৈঠক অনুষ্টিত হয় সন্ধ্যা ছয়টায়। এসময় বাংলাদেশের কয়েক শত নর নারী সীমান্তের ২০৩৫ পিলারের অদূরে দাঁড়িয়েছিল। প্রথমে কলেজ ছাত্র মুরসালিনের লাশ বাংলাদেশের বডার গার্ডের নিকট হস্তান্তর করা হয় সন্ধায় ৬.১০ মিনিটে । পরে নবীর হোসেনের লাশ হস্তান্তর করা হয় সন্ধা ৬.৫০ মিনিটে । লাশ গ্রহণ করেন ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, চন্ডিদ্বার বিওপি কমান্ডার সুবেদার মইনুদ্দিন, অফিসার ইনচার্জ কসবা থানা নাজনীন সুলতানা। এ সময় ভারতের পক্ষে নেতৃত্বদেন ৪৯ বিএসএফের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল অজিত কুমার। পরে বিজিবি লাশ দুটি কসবা থানার নিকট হস্তান্তর করেন । অফিসার ইনচার্জ কসবা থানা জানান, যেহেতু ভারত তাদের ময়নাতদন্ত করেছে তাই আমরা নিহতদের পরিবারের নিকট লাশ হস্থান্তর করা হয়েছে। এ সময় ভারতীয় সীমান্তের ভেতরও কয়েকশত সাধারণ নাগরিক, পুলিশ ও বিএসএফ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ৬০ বিজিবি অধিনায়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার ১৫ জন চোরাকারবারী ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় শুক্রবার রাতে ধজনগর এলাকার পাথারিয়াদ্বার সীমান্তের ২০০ গজ ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। ভারত থেকে চোরাচালানি মালামাল নিয়ে আসার সময় প্রতিপক্ষ ৪৯ বিএসএফের ব্যাটালিয়ন টহল দল তাদের বাধা প্রদান করেন। এসময় বাংলাদেশের চোরাকারবারিরা বিএসএফ এর উপর চড়াও হয় এবং বিএসএফ এর সাথে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে চোরাকারবারিদের উপর বিএসএফ ২ রাউন্ড ছররা গুলি ফায়ার করে। এতে মুরসালিন ও নবির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। তারা দুজনই চিকিৎসাধিন অবস্থায় ভারতের হাসপাতালে মারা যায়। নিহত নবির হোসেনের ভাগিনা ইয়াসিন (২৫) জানান, তার মামা একজন অটোচালক। অভাবেব তাড়নায় রাতে লেবার হিসেবে সীমান্তে কসমেটিক্স ও অন্যান্য মালামাল পারাপার করতেন। ওই রাতে ৩০/৩৫জনের একটি দল মালামাল আনার সময় বিএসএফ গুলি ছুড়লে তার মামা নবির হোসেন মারা যায়। মামার কোন সহায় সম্পদ নেই। ২ মেয়ে ১ ছেলে নিয়ে অন্যের বাড়িতে থাকেন। ধজনগর গ্রামের নোমান মিয়া জানান, এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হলেও কেউ মুখ খুলছেনা। তবে তার গ্রামের মুক্তা মিয়া (৪৫) আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ছাড়া মানিক্যমুড়ি গ্রামের বাহার উদ্দিন (৪৫) কুমিল্লা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পাথারিয়াদ্বার গ্রামের জোবায়ের (২২) ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি আরো জানান, তিনি শুনতে পেয়েছেন ভারতে আরো একজন মুর্মূর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সীমান্তবর্তী জয়নগর বাজারের আলমগীর হোসেন বলেন, শুক্রবার বিকেলে চোরাকারবারিদের সাথে টহলরত বিএসএফ সদস্যদের কথা কাটাকাটি ও এক পর্যায়ে গালাগালি বাক্য বিনিময় হয়েছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গে বিধান সভার নির্বাচনে বিজিবি পাস করায় ত্রিপুরায় অস্থিরতা বিরাজ করছিল এবং রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মারামারি হওয়ায় সীমান্তে বিএসএফ কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। আমাদের পক্ষ থেকে এই মুহুত্বে চোরাচালান বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছিল কিন্তু এরা কেউ কথা শুনেনি।
আপনার মতামত লিখুন