চ্যানেল এ
লিংক কপি হয়েছে!
আপনি কি আগের জায়গা থেকে পড়া শুরু করতে চান?
×

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

লোডিং...
শুভ সন্ধ্যা, প্রিয় পাঠক!

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কসবার নাকাল অবস্থা, বিপর্যস্ত জনজীবন



কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কসবার নাকাল অবস্থা, বিপর্যস্ত জনজীবন
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কসবার নাকাল অবস্থা, বিপর্যস্ত জনজীবন

ফেসবুক প্রতিক্রিয়া

লাইক এবং শেয়ার দেখুন
সংবাদের বিষয়সূচি

    কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কসবার নাকাল অবস্থা, বিপর্যস্ত জনজীবন। প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় কসবা–কুমিল্লা সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সড়কজুড়ে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাছ অপসারণের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে প্রবল বেগে (প্রায় ৬০–৭০ মাইল) কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মোবাইল টাওয়ার ও শত শত গাছপালা ভেঙে পড়ে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে বিনাউটি ইউনিয়নের তিনলাখপীর এলাকায়, যেখানে একটি বড় মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার ঝড়ে দুমড়ে-মুচড়ে পাশের পুকুরে পড়ে যায়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এটি একটি ‘মাদার টাওয়ার’ ছিল, যার সঙ্গে আশপাশের প্রায় ১০টি টাওয়ার সংযুক্ত ছিল। ফলে টাওয়ারটি ধসে পড়ায় পুরো এলাকায় মোবাইলইন্টারনেট সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইতোমধ্যে টাওয়ারটি পুনঃস্থাপনের জন্য প্রযুক্তিগত দল কাজ শুরু করেছে।

    এদিকে ঝড়ের আঘাতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহাম্মেদ উল্লাহ জানান, অন্তত ১১৩টি ঘরবাড়ি ও ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন।

    ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় উপজেলার অন্তত ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মইনপুর বিজিপি ক্যাম্পের সামনে একটি পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি সড়কের ওপর ভেঙে পড়ে, যা যান চলাচলে বড় বাধা সৃষ্টি করে। এছাড়া কায়েমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

    ঝড়ের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে কৃষিখাতে. পাকা বোরো ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় কৃষকদের মাঝে হতাশা নেমে এসেছে। অনেক ক্ষেতেই ধান কাটা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও জরুরি মেরামত কাজ চলছে। ফায়ার সার্ভিস, পল্লী বিদ্যুৎ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে ভেঙে পড়া গাছ ও বিদ্যুতের লাইন দ্রুত অপসারণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ১–২ দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    কালবৈশাখীর এই আকস্মিক তাণ্ডবে কসবা উপজেলায় জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

    এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?
    👍
    লাইক
    ❤️
    ভালোবাসি
    😂
    হা হা
    😮
    ওয়াও
    😢
    দুঃখজনক
    খবরটি রেটিং দিন
    গড় রেটিং: 4.8/5 (142 ভোট)
    Google News

    গুগল নিউজে ফলো করুন

    সবার আগে সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

    Follow

    হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে যুক্ত হোন

    খবরের সব আপডেট সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে যুক্ত থাকুন

    Join Now

    বিষয় : কসবা

    মোঃ শরীফুল ইসলাম

    মোঃ শরীফুল ইসলাম

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কসবা উপজেলা প্রতিনিধি

    তিনি নিয়মিত রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    আপনার মতামত লিখুন

    Loading...

    পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...

    চ্যানেল এ

    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


    কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কসবার নাকাল অবস্থা, বিপর্যস্ত জনজীবন

    প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

    featured Image

    কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কসবার নাকাল অবস্থা, বিপর্যস্ত জনজীবন। প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় কসবা–কুমিল্লা সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সড়কজুড়ে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাছ অপসারণের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে প্রবল বেগে (প্রায় ৬০–৭০ মাইল) কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মোবাইল টাওয়ার ও শত শত গাছপালা ভেঙে পড়ে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে বিনাউটি ইউনিয়নের তিনলাখপীর এলাকায়, যেখানে একটি বড় মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার ঝড়ে দুমড়ে-মুচড়ে পাশের পুকুরে পড়ে যায়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এটি একটি ‘মাদার টাওয়ার’ ছিল, যার সঙ্গে আশপাশের প্রায় ১০টি টাওয়ার সংযুক্ত ছিল। ফলে টাওয়ারটি ধসে পড়ায় পুরো এলাকায় মোবাইলইন্টারনেট সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইতোমধ্যে টাওয়ারটি পুনঃস্থাপনের জন্য প্রযুক্তিগত দল কাজ শুরু করেছে।

    এদিকে ঝড়ের আঘাতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহাম্মেদ উল্লাহ জানান, অন্তত ১১৩টি ঘরবাড়ি ও ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন।

    ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় উপজেলার অন্তত ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মইনপুর বিজিপি ক্যাম্পের সামনে একটি পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি সড়কের ওপর ভেঙে পড়ে, যা যান চলাচলে বড় বাধা সৃষ্টি করে। এছাড়া কায়েমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

    ঝড়ের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে কৃষিখাতে. পাকা বোরো ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় কৃষকদের মাঝে হতাশা নেমে এসেছে। অনেক ক্ষেতেই ধান কাটা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও জরুরি মেরামত কাজ চলছে। ফায়ার সার্ভিস, পল্লী বিদ্যুৎ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে ভেঙে পড়া গাছ ও বিদ্যুতের লাইন দ্রুত অপসারণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ১–২ দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    কালবৈশাখীর এই আকস্মিক তাণ্ডবে কসবা উপজেলায় জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।


    চ্যানেল এ

    মোবাইল নাম্বারঃ +8801602460060

    Email: hr.channela@gmail.com
    বিজ্ঞাপনঃ +8801602460060
    info@channelabd.com


    কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল এ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
    App Icon
    অ্যাপ ইন্সটল করুন

    দ্রুত এবং সহজে খবর পড়তে আমাদের অ্যাপটি ব্যবহার করুন।

    সর্বশেষ খবরের আপডেট চান?

    সবার আগে ব্রেকিং নিউজ এবং গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।