ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ২০২৬ ফাইনাল চলাকালে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টায় আকছিনা পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা মীরশাহপুর ও মীরতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলার আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যেই রাস্তা পারাপারের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয় দুই শিক্ষার্থী। আহতরা হলো—মোঃ ইমন, আকছিনা মীর শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র এবং মোছাঃ আদিবা, মীরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। পরে আহত দুই শিক্ষার্থীকে নেওয়া হয় কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে কসবা-নয়নপুর সড়কে বেপরোয়াভাবে যানবাহন চলাচল করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। স্পিড ব্রেকার না থাকাই এর অন্যতম কারণ বলে তারা জানান।এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কামরুল নাহার খানম দ্রুত স্পিড ব্রেকারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এলাকাবাসীও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি .তবে এই বিষয়টি অবগত হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সামিউল ইসলাম বলেন দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড রসুলপুর গ্রামে শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে আড়াইহাজার মোল্লাপাড়া প্রিমিয়ার লিগের ফাইনাল আজ ২৭ মার্চ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।ফাইনাল ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল টাইগার এলিভেন বনাম মিশন ইম্পসিবল। বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি দেখতে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত পারফরম্যান্স এবং আয়োজকদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় ফাইনাল ম্যাচটি একটি স্মরণীয় আয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।মিশন ইম্পসিবল দল ৫ উইকেটে জয়লাভ করেছে, দুই বল হাতে রেখে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জনাব এ. এন. এম. ডি. মহিউদ্দিন মোল্লা (শামীম), চেয়ারম্যান, আর. এম. গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব এ. এন. এম. ডি. কুতুব উদ্দিন মোল্লা এবং জনাব এ. এন. এম. ডি. মাহতাব উদ্দিন মোল্লা।সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃ খুররম মোল্লা, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন জনাব মাহফুজুর রহমান মোল্লা। এছাড়া অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।খেলা শেষে বিজয়ী এবং রানার-আপ দলের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।মোল্লাপাড়া প্রিমিয়ার লীগের এবারের ফাইনাল শুধু ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি স্থানীয় ঐক্য, আনন্দ এবং তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার আগ্রহ বৃদ্ধির একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের ঐতিহ্য আজ স্মার্টফোনের নীল আলো আর যান্ত্রিক নগরজীবনের আড়ালে ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে। নবান্নের সেই নতুন ধানের ঘ্রাণ কিংবা মেঠো সুরের যাত্রাপালা এখন কেবলই স্মৃতির পাতায় বন্দি। আমাদের লোকজ সংস্কৃতির এই হারিয়ে যাওয়া জৌলুস এবং শিকড় বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী হেনা শিকদার তুলে ধরেছেন এক গভীর আক্ষেপ ও সম্ভাবনার কথা। তার এই লেখনি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা কেবল উৎসব নয়, বরং আমাদের অস্তিত্ব রক্ষারই নামান্তর।গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকজ উৎসবলিখেছেন: হেনা শিকদারদর্শন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়বাঙালির পরিচয় তার উৎসবে। এক সময় গ্রাম বাংলার প্রতিটি ঋতু আসত নতুন নতুন উৎসবের বার্তা নিয়ে। মাঠ ভরা ধান, কলকলিয়ে বয়ে যাওয়া নদী আর মাটির সোঁদা গন্ধে মিশে থাকত এসব লোকজ আয়োজন। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আজ সেই জৌলুস ফিকে হয়ে আসছে। স্মার্টফোনের স্ক্রিন আর যান্ত্রিক কোলাহলে আমরা কি হারিয়ে ফেলছি আমাদের নিজস্ব সত্তা?গ্রাম বাংলার চিরায়ত রূপের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে অফুরন্ত উৎসবের এক রঙিন ক্যানভাস। "বারো মাসে তেরো পার্বণ" এই প্রবাদটি কেবল কথার কথা ছিল না, ছিল বাঙালির প্রাণের স্পন্দন। কিন্তু আধুনিকতা আর যান্ত্রিকতার প্রবল স্রোতে আমাদের সেই প্রাণের উৎসবগুলো আজ ধূসর হয়ে যাচ্ছে।নবান্ন: নতুন ধানের ঘ্রাণে মাতোয়ারা গ্রামনবান্ন মানেই ছিল উৎসবের মহোৎসব। অগ্রহায়ণের নতুন ধান ঘরে তোলার পর শুরু হতো পিঠা-পুলি আর পায়েসের ধুম। বাড়ির উঠানে আল্পনা আঁকা, পাড়া-প্রতিবেশীকে নিমন্ত্রণ জানানো আর ঢেঁকির শব্দে মুখরিত হওয়া ছিল নবান্নের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখন ধান কাটার যন্ত্র এসেছে, কিন্তু সেই উৎসবের আমেজ আজ যান্ত্রিকতায় বন্দি।যাত্রাপালা ও পুতুলনাচ: বিনোদনের আদি আঙিনাশীতের রাতে খোলা মাঠে সামিয়ানা টাঙিয়ে বসত যাত্রাপালার আসর। ‘বিবেক’ যখন তার গম্ভীর সুরে গান গাইত, তখন গোটা গ্রামের মানুষ মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনত। একইভাবে মেলায় দেখা যেত পুতুলনাচ। সামাজিক বার্তা আর লোককথার মিশেলে এই মাধ্যমগুলো ছিল গ্রামীণ সংস্কৃতির দর্পণ। আজ ডিশ এন্টেনা আর ইউটিউবের যুগে সেই যাত্রার দলগুলো অস্তিত্ব সংকটে।গ্রামীণ খেলাধুলা: নৌকাবাইচ ও লাঠিখেলানদীমাতৃক বাংলায় বর্ষাকালে নৌকাবাইচ ছিল সবচেয়ে রোমাঞ্চকর উৎসব। সারি গান গেয়ে মাঝিদের নৌকার সেই তীব্র গতি দেখার জন্য নদীর দুই পাড়ে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করত। অন্যদিকে মেলায় বা বিশেষ অনুষ্ঠানে হতো লাঠিখেলা। বীরত্বের এই প্রদর্শনী এখন কেবল বিশেষ দিনগুলোতে কোনোমতে টিকে আছে।হালখাতা ও লোকজ মেলাপহেলা বৈশাখের প্রধান আকর্ষণ ছিল হালখাতা। মিষ্টিমুখ আর লাল মলাটের নতুন খাতা খোলার মাধ্যমে যে সামাজিক সেতুবন্ধন তৈরি হতো, তা আজ অনলাইন পেমেন্ট আর ডিজিটাল লেনদেনের ভিড়ে হারিয়ে গেছে। আগে গ্রাম্য মেলাগুলোতে পাওয়া যেত মাটির পুতুল, নাগরদোলা আর খই-বাতাসা। এখন মেলার সেই 'মাটির টান' প্লাস্টিকের খেলনায় ঢেকে গেছে।আমাদের উৎসবগুলো ছিল মূলত সাম্য ও সম্প্রীতির প্রতীক। আধুনিক জীবনযাত্রায় আমরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছি। যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ায় এবং নগরায়নের প্রভাবে আমরা উৎসবের সেই খোলা আকাশ হারিয়ে ফেলেছি। লোকজ সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়া মানে কেবল বিনোদন হারানো নয়, বরং আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।সংস্কৃতি হলো মানুষের পরিচয়। আমরা যদি আমাদের উৎসবগুলো টিকিয়ে রাখতে না পারি, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক কৃত্রিম পৃথিবীতে বেড়ে উঠবে যেখানে মাটির কোনো ঘ্রাণ থাকবে না।এখনো সময় ফুরিয়ে যায়নি। যদি আমরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাড়ায় পাড়ায় ছোট পরিসরে হলেও নবান্ন উদযাপন করি কিংবা হারিয়ে যাওয়া খেলাধুলার আয়োজন করি, তবে হয়তো প্রাণের মেলাগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাবে। মনে রাখা দরকার, আমাদের এই লোকজ উৎসবগুলোই আমাদের বিশ্বদরবারে অনন্য করে তোলে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বসন্তের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার গ্রামগঞ্জের আমবাগানগুলোতে ফুটতে শুরু করেছে আম্র মুকুল। আর সেই মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে সুবাসিত হয়ে উঠেছে চারদিক। সকাল-বিকেল হালকা বাতাসে ভেসে আসা মুকুলের সৌরভ মন ছুঁয়ে যাচ্ছে পথচারী থেকে শুরু করে সবাইকে।উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গাছে গাছে ছোট ছোট সবুজাভ-হলুদ মুকুলের সমারোহ। কোথাও আবার মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর আমবাগান। কৃষকদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এ বছর আমের ফলন ভালো হওয়ার আশা করা যাচ্ছে। গত কয়েকদিনের রোদেলা দিন আর মৃদু বাতাস মুকুল গঠনে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।স্থানীয় আমচাষিরা জানান, এবার গাছে মুকুল ভালো এসেছে। যদি ঝড়-বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টি না হয়, তাহলে ফলন নিয়ে আমরা আশাবাদী। তিনি আরও বলেন, সময়মতো কীটনাশক প্রয়োগ ও পরিচর্যা করলে ফলন আরও ভালো হতে পারে।আম্র মুকুল শুধু ফলনের বার্তাই দেয় না, গ্রামীণ জীবনে আনে এক অন্যরকম আবহ। বিকেলের দিকে বাগানের পাশে শিশুদের খেলাধুলা, তরুণদের আড্ডা আর পাখির কলতানে যেন উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বাগানে গিয়ে ছবি তুলছেন, কেউবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন বসন্তের এই রূপ।কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, মুকুলের সময় গাছে নিয়মিত নজরদারি জরুরি। পোকার আক্রমণ বা ছত্রাকজনিত রোগ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত কুয়াশা বা আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি হলে মুকুল ঝরে পড়ার আশঙ্কা থাকে।সব মিলিয়ে, কালিহাতীতে এখন বসন্তের ছোঁয়া। আম্র মুকুলের ঘ্রাণে মাতোয়ারা প্রকৃতি যেন জানিয়ে দিচ্ছে আসছে মধুমাস, আসছে সোনালি আমের দিন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের উদ্যোগে এক বিশাল গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (৯ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে তিনটায় মিছিলটি আড়াইবাড়ি মাদ্রাসা মাঠ থেকে শুরু হয়ে কসবার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কসবা রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে সমাপ্ত হয়। মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের জামায়াত জোটের মনোনীত প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার। তিনি বলেন, “দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, দুঃশাসন ও লুটপাটের রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। জনগণ আজ একটি ন্যায়ভিত্তিক, ইনসাফপূর্ণ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি আরও বলেন, আমরা ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুশাসন কায়েমের জন্য রাজনীতি করছি। যদি জনগণ আমাদের দায়িত্ব দেয়, তাহলে কসবা-আখাউড়াকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি আদর্শ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোবারক হোসাইন আকন্দ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক নায়েবে আমীর কাজী ইয়াকুব আলী, জেলা জামায়াতের যুব ও আইন বিষয়ক সম্পাদক কাজী সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা আমীর অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, নায়েবে আমীর শিবলী নোমানী, কসবা পৌরসভা আমীর হারুন অর রশিদ, ছাত্রশিবিরের উপজেলা সভাপতি জাহিদ মোল্লা, খেলাফত মজলিসের আমীর হাফেজ আহমদ, এনসিপি নেতা তানভীর ইসলাম শাহিন ও ওবায়দুর রহমান প্রমুখ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, বিগত তিনটি ইলেকশনে পুলিশ, প্রশাসনকে সামনে রেখে দিনের ভোট রাতে হয়েছে, মরা মানুষ এসে ভোট দিয়েছে, যার ফল হিসেবে ৫ আগস্ট হয়েছে। তবে প্রশাসনের অনেকেই চায় একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক ইলেকশনের মাধ্যমে দেশপ্রেমিকরা ক্ষমতায় আসুক। কিন্তু কিছু লোভী লোক এখনো আগের মতো আচরণ করছে।তিনি বলেন, এই নির্বাচন চব্বিশের শহিদ আর আহতদের ঋণ। খুন, নিপীড়নের জবাব দেওয়ার নির্বাচন। এই নির্বাচনের জন্য বহু রক্ত ঝরেছে। অনেক স্ত্রী স্বামী হারিয়েছে, অনেক মা তার সন্তান হারিয়েছে। তাই আগামী নির্বাচন প্রশাসন জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে আবারও একটি ৫ আগস্ট হবে।ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই দেশকে ভোট চোরদের হাত থেকে তুলে দেওয়া হবে, নাকি জনগণের হাতে দেওয়া হবে—সেই সিদ্ধান্ত প্রশাসনকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ১১-দফা দাবি সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আমজাদ হোসাইন আশরাফীর সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, গত দেড় বছরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির টাকা এখন ইলেকশনে আনা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তবে আমরা জনগণের ওপর বিশ্বাস রাখতে চাই। তারা ১১ তারিখ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে চাঁদাবাজদের প্রত্যাখ্যান করবে। মানুষ চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজিতে অতিষ্ঠ। তাই ১১-দফার ভোটই একমাত্র বাংলাদেশ গড়বে, সেই বাংলাদেশ হবে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ।তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা টাকার কাছে গোলামী স্বীকার করবে, নাকি সঠিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পাঁচ বছরের জন্য মালিক হবে।এ সময় মিডিয়ার সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা দেখলাম, সারা মিডিয়া, সব জায়গায় একটি দলের শুধু বন্দনা-প্রশংসা, শুধুমাত্র বিএনপির জন্য। মিডিয়া খবরের মাধ্যমে মাধ্যমে বিএনপির প্রচারণা চালাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে আপনারা যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করেন, জনগণ এবার মিডিয়াকেও লাল কার্ড দেখাবে।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় “সুস্থ দেহ, সুন্দর মন” এই স্লোগানকে সামনে রেখে কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউসার হামিদ। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌরসভার পৌর প্রশাসক ইয়াসিন সাদেক এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ মনিরুজ্জামান খান।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী দিনে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়।বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। তবে উদ্বোধনী দিনেও কিছু প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৮ নম্বর নেত্রকোনা-২ (নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। এই আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রবীণ ও অভিজ্ঞ প্রার্থীর সঙ্গে তরুণ নেতৃত্বের লড়াইকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩৮ জন।এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১২ জন।এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মো. আনোয়ারুল হক। জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে শাপলা কলি প্রতীকে লড়ছেন দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে এ বি এম রফিকুল হক তালুকদার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের বটগাছ প্রতীকে আব্দুর রহিম রুহী এবং ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকে আব্দুল কাইয়ুম নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।তবে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির প্রার্থী ডা. আনোয়ারুল হক ও জামায়াত জোট সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠানের মধ্যে।জেলা বিএনপির রাজনীতিতে ডা. আনোয়ারুল হক সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন ২০১২ সালে। রাজনৈতিক জীবনের শুরুটা হয় দলের দুঃসময়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তিনি একাধিক মামলার ভুক্তভোগী হন এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকেই ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দুঃসময়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় এই আসনে তাঁর শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এইবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে এনসিপির প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠান রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ।তিনি গণ অধিকার পরিষদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদের মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হন। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। আওয়ামী সরকার পতনের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিতে কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও জামায়াত জোটের শরিক দলের প্রার্থী হিসেবে এবার শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি।স্বাধীনতার পর নেত্রকোনা-২ আসন থেকে বিএনপি মোট দুইবার নির্বাচিত হয়েছে। ১৯৯১ সালে প্রথমবার বিএনপির হয়ে এমপি নির্বাচিত হন আবু আব্বাস। পরে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের এমপি আব্দুল মমিন মৃত্যুবরণ করলে ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে পুনরায় এই আসনে জয় পান আবু আব্বাস।এবার নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অনেক ভোটার বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জনসম্পৃক্ত থেকে কাজ করা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে ডা. আনোয়ারুল হক এগিয়ে রয়েছেন। তবে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, জামায়াত জোটের শরিক দল থেকে তুলনামূলক নতুন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আবার তরুণ ভোটারদের একটি অংশ মনে করেন, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তরুণ প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠানকে সুযোগ দেওয়া উচিত।সব মিলিয়ে নেত্রকোনা-২ আসনে প্রবীণ অভিজ্ঞতা না তরুণ নেতৃত্ব—কার প্রতি ভোটাররা আস্থা রাখবেন, তার উত্তর মিলবে ভোটের দিনই।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্যোগে খাড়কুট গ্রামে এক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী,কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মো.আতাউর রহমান সরকার বলেন, এবারের নির্বাচনে জনগণ দুর্নীতিমুক্ত ও সৎ ব্যক্তিকেই নির্বাচিত করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, তরুণদের জন্য বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য স্কলারশিপ, বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং আখাউড়া–কসবা জনপদকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে আখাউড়া–কসবায় নিয়মিত অফিস করা হবে এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে এবং নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে।আতাউর রহমান সরকার বলেন, এবারের নির্বাচনে জনগণ চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের প্রত্যাখ্যান করেছে।বিরোধী দলের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গড়ে ওঠা এই গণজোয়ার কোনোভাবেই আটকানো যাবে না। জনগণ ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামীর সরকার ১১ দলীয় ঐক্যের মাধ্যমে গঠিত হবে। উঠান বৈঠকে খেলাফত মজলিস আখাউড়া উপজেলা শাখার সেক্রেটারি হাফেজ আলম আতাউর রহমান সরকারের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে; তবে বিজয় নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের ওপর পাথর নিক্ষেপসহ বিভিন্নভাবে হামলা চালিয়ে এই গণজোয়ার থামানো যাবে না। এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে তারা আর চুপ থাকবে না। মো. ইমাম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আখাউড়া উপজেলা সভাপতি ফখরুদ্দিন তাজি, কসবা উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি মুন্সীজাদা বরকতুল্লাহ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক সাইফুল্লাহ আল আরিফ, আখাউড়া উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি শেখ আসিফ, কসবা উপজেলার ১ম নম্বর যুগ্ম সমন্বয়কারী তানভীর ইসলাম শাহীন, আখাউড়া উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী ফারহান সাকিব, খেলাফত মজলিস আখাউড়া উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রাইহান সিরাজী, তুলাইশিমুল কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম জামিল মৃধা,কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সভাপতি হেবজু ভূইয়াসহ বিভিন্ন ছাত্রপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আজ ৩০ শে জানুয়ারি নুুরুল্যাবাদ দেওয়ানপাড়া তরুন সংঘের ক্লাবের উদ্যোগে নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত খেলায় ৮ টি দল অংশগ্রহণের মাধ্যমে খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনাল ম্যাচে মাসুম ক্রিকেট একাদশ বনাম মাষ্টার কিং ক্রিকেট একাদশ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবং মাষ্টার কিং ক্রিকেট একাদশ বিজয় লাভ করেন। খেলা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরন করেন। মোঃ কাফি দেওয়ানের সভাপতিত্বে এবং মোঃ এমরান দেওয়ানের সঞ্চালনার মাধ্যমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় অনুষ্ঠান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ খোরদেশ আলম শিলাল সাবেক আহবায়ক নুরুল্যাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাবুব আলম সিনিয়র সহ-সভাপতি ১০ নং নুরুল্যাবদ ইউনিয়ন যুবদল, আরো উপস্থিত ছিলেন আব্দুল মমিন মোল্যা যুবদল নুরুল্যাবাদ ইউনিয়ন, মোঃ মোতাহার হোসেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ১ নং ওয়ার্ড যুবদল,মোঃ সামছুল আলম সাংগঠনিক সম্পাদক ৯ নং ওয়ার্ড যুবদল, মোঃ আব্দুল মাজেদ সাংগঠনিক সম্পাদক ১ নং ওয়ার্ড যুবদল, শাহিন আলম সহ সভাপতি নুরুল্যাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রদল,ছাত্রদল নেতা রাজু আহমেদ, রাশেদ আরাফাত প্রমুখ
আমি এমপি নির্বাচিত হতে পারলে বাঘারপাড়া থেকে চাঁদাবাজদের সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে বলে জানিয়েছেন যশোর-৪ (বাঘারপাড়া ও অভয়নগর) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রসুল।শুক্রবার বিকেলে বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুল বলেন, যশোরে সবজি কন্যা হিসেবে খ্যাত খাজুরা। কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে এ অঞ্চলের কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য ঠেকানো হবে। পণ্য বিপণন ব্যবস্থা উন্নত এবং প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকের কাছে প্রযুক্তি ও কৃষিভিত্তিক তথ্যসেবা পৌঁছে দেয়া হবে।এ সময় জুলাই শহীদের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য সবাইকে আসন্ন নির্বাচনের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে ও দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান গোলাম রসুল।এদিন বিকেলে খাজুরা বাজার পশুহাট চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, বন্দবিলা ইউনিয়ন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির নূরুন্নবী ছামদানী।বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাঘারপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার ও কর্মপরিষদ সদস্য হাফেজ মাওলানা হাফিজুর রহমান। খাজুরা সাংগঠনিক থানা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবি মুন্তাছিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন, উপজেলা এনসিপির সহসমন্বয়ক জিহাদুল ইসলাম। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন, উপজেলা খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি মইনুদ্দিন, মুফতি মাসুম বিল্লাহ ও এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন। সন্ধ্যার পর জহুরপুর ইউনিয়নের বেতালপাড়া বাজারে জনসভা ও রায়পুর ইউনিয়নের দর্গাহপুর বাজারে ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন অধ্যাপক গোলাম রসুল।
নওগাঁর মান্দায় ৮নং কুসুম্বা ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ী বাজারে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯জানুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত এই জনসভায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৮ নং কুসুম্বা ইউনিয়নের আমির হাফেজ সাইফুদ্দীন এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ইউনিয়ন সেক্রেটারি মাওলানা মো আব্দুর রাজ্জাক প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, নওগাঁ জেলা আমির এবং নওগাঁ–৪ (মান্দা) আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত এমপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুর রাকিব। তিনি বলেন,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকারের গেলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই বোনেরা মায়ের কোলের মতই নিরাপদ থাকবে। তিনি আরো বলেন কোনো চাঁদাবাজ,দখলবাজদের আমরা ক্ষমতায় যেতে দিবো না ইনশাআল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নওগাঁ জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা মোস্তফা আল আমিন, উপজেলা আমীর মাওলানা মো: আমিনুল ইসলাম খেলাফত মজলিসের মান্দা উপজেলা আমির মুফতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান।অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ইলিয়াস খান, যুব বিভাগের সভাপতি মো. আব্দুল মালেক, ৯নং তেতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান কামরুল , হাফেজ আইনাল হক, আমিনুল ইসলাম এবং ইসলামী ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া শহর শাখার অফিস সম্পাদক আমানুল্লাহ।জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের মান্দা উপজেলা সেক্রেটারি মুফতি মাওলানা আল আমিন, এনসিপির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম হোসেন, এনসিপি নেতা হাফিজুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।বক্তারা নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
দ্রুত এবং সহজে খবর পড়তে আমাদের অ্যাপটি ব্যবহার করুন।
সবার আগে ব্রেকিং নিউজ এবং গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।