রাজশাহী নগরে পদ্মা নদীর পাড়ে ঘুরতে যাওয়া তরুণ-তরুণীকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগ তুলে তাঁদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ টাকা ও মুঠোফোন লুট করে নেওয়া হয়।শনিবার বেলা ১১টার দিকে নগরের হারুপুর এলাকায় রাজশাহী হাইটেক পার্কের পেছনে পদ্মা নদীর আইবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা যায়, চক্রের সদস্যরা মেয়েটির কাছে ৫০ হাজার এবং ছেলেটির কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। একপর্যায়ে ছেলেটির মুঠোফোন ও টাকাসহ মানিব্যাগ কেড়ে নেওয়া হয়। দুই দিন পেরিয়ে গেলেও ফোন ও মানিব্যাগ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, তরুণ দন্তচিকিৎসক তবারক রহমান ও নগরের বিসিক আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মচারী মামুন বিল্লাহ। তাঁদের চেষ্টায় তরুণীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে এ সময় চিকিৎসক তবারক রহমানের ওপর হামলা করা হয়।মামুন বিল্লাহ জানান, তিনি তাঁর পাঁচ বছরের সন্তানকে নিয়ে আইবাঁধ এলাকায় বেড়াতে যান। সেখানে হট্টগোল শুনে এগিয়ে গেলে জানতে পারেন, এক তরুণ-তরুণী পাশের ফুটবল মাঠের ওয়াকওয়েতে বসেছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁদের জোর করে ডেকে পাশের শ্মশানঘাটের দিকে নিয়ে যান। ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগ তুলে ছেলেটির পরিবারের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা আনতে চাপ দেন এবং তাঁর ফোন ছিনিয়ে নেন। একপর্যায়ে ছেলেটি সেখান থেকে দৌড়ে আইবাঁধে উঠে এলেও মেয়েটিকে জিম্মি করে রাখা হয়।পরিস্থিতি বুঝে মামুন বিল্লাহ জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ -এ কল দেন। পরে তিনি ও উপস্থিত কয়েকজন তরুণীকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাঁকে বুলনপুর এলাকার দিকে নিয়ে যেতে থাকে। খবর পেয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে বুলনপুর এলাকায় নদীর ধারে তরুণীকে পাওয়া যায়।দন্তচিকিৎসক তবারক রহমান বলেন, তিনি তরুণ-তরুণীকে থানায় নেওয়ার পক্ষে জোর দিলে চক্রের সদস্যরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাঁদের গায়ে একই ধরনের জার্সি ছিল। একজনের জার্সিতে ‘তুহিন’ নাম লেখা ছিল। তাঁর দাবি, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্র। নদীর পাড়ে কোনো ছেলে-মেয়ে দেখলেই তারা টার্গেট করে ব্ল্যাকমেল করে টাকা ও মোবাইল হাতিয়ে নেয় ।কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি ফরহাদ আলী বলেন, ঘটনাস্থল অন্য থানার আওতাধীন হওয়ায় ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে রাজপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।রাজপাড়া থানার ওসি আবদুল মালেক জানান, ভুক্তভোগী তরুণ একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছিনতাই হওয়া মুঠোফোন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় জমে উঠেছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেষ মুহুর্তে এসে প্রার্থীরা বিরামহীনভাবে নাওয়া খাওয়া ভূলে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থীরা তাদের কর্মী সমর্থক নিয়ে ভোটারদের মন জয় করতে দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। যতই ভোটের দিন এগিয়ে আসছে ততই জমে উঠছে ভোটের লড়াই。 এই আসনে মূলত ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মুশফিকুর রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকারের প্রচারণা রয়েছে চোখে পড়ার মতো। এই দু’দলের মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডা হাড্ডি。 এবার ভোটের সমীকরণ কিছুটা ভিন্ন। কে হবেন এ আসনের প্রতিনিধি, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা এখনো তৈরি হয়নি। দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারা অনেক ভোটার বলছেন, এবার প্রার্থী নয়, প্রতীক দেখেই ভোট দেবেন। আবার কেউ কেউ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রার্থীর অতীত কর্মকান্ড ও রাজনৈতিক পরিচ্ছন্নতাকে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। অন্য দলগুলোর পক্ষে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন ভোটারদের একটি বড় অংশ। নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও এখনো অনেক ভোটার প্রকাশ্যে তাদের পছন্দের কথা বলছেন না। ফলে ভোটের হিসাব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় জটিল হয়ে উঠেছে। এ আসনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এমন সব তথ্য উঠে এসেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সময় এই আসনটি ছিল বিএনপির দখলে। ২০০৮ সালের পর থেকে আসনটি দখলে নেয় আওয়ামী লীগ। এতে বিএনপির ভোটব্যাংকে কিছুটা ভাটা পড়ে। তবে দলটি মাঠ ছাড়েনি। হাসিনা সরকারের ভোট ডাকাতি, জালিয়াতি ও রাতের ভোটের কারণে বিএনপি সুবিধা করতে পারেনি। তবুও আশা ছাড়েনি তারা। এবার তাদের প্রত্যাশা ছিল ভিন্ন। কিন্তু সেই প্রত্যাশার গুড়ে বালি ঢেলেছে জামায়াতে ইসলামী। এই আসনে জামায়াত আগে বিএনপির সঙ্গে জোটে ছিল। এবার তারা এককভাবে নির্বাচন করছেন। ইতিমধ্যে তারা আসনটিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ফলে বিএনপি ও তাদের হারানো আসন ধরে রাখতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। কে কতটা জনপ্রিয়, তা স্পষ্ট হবে আগামী ১২ তারিখের ভোটে। পৌর শহরের মসজিদ পাড়া এলাকায় চায়ের দোকানে কথা হয় মো. মজিবুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, এবার বিএনপির প্রার্থী এমপি হওয়া খুবই কঠিন। কারণ জামায়াতের সঙ্গে কঠিন লড়াই করেই জয়ী হতে হবে। কারণ আমরা দেখছি বিএনপির মধ্যে অনেক নেতাকর্মী কিছুটা দুরে দুরে অবস্থান করছেন। তাছাড়া এক সময় যারা বিএনপির ভোটার ছিল তারা এখন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। মানুষের রুপ চেনা খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে। ভোটার আলমাছ মিয়া বলেন, দীর্ঘ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার কাঙ্খিত প্রাথীকে ভোট দেবো। অনেক দলের লোকজন আসছে। তবে প্রার্থী নয় প্রতীক দেখে ভোট দিতে চাই। অটোচালক বাদল মিয়া বলেন, অনেক কিছু দেখেছি। এবার একটু ভিন্নভাবে ভাবছি। হিসাব-নিকাশ করেই ভোট দেবো। কারণ হিসেবে বলেন, আগে যাদের ভোট দিয়েছেন তারা পালিয়ে গেছে। কেউ কেউ ক্ষমতায় আসার আগেই দাপট দেখাচ্ছে। শান্তির লক্ষে শান্তিপ্রিয় মানুষকে ভোট দিতে চাই। যার দ্বারা এলাকার উন্নয়ন হবে। সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে সব সময়। ভোটার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা যাদের কারণে ১৭ বছর ভোট দিতে পারিনি, অনেক দলের নেতারা এখন তাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলছেন। আমরা আর দেশকে পিছনের দিকে নিতে চাই না ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন চাই। যাকে ভোট দিলে নিরাপদে থাকা যাবে তাকে ভোট দিব। বিএনপি প্রার্থী মুশফিকুর রহমান বলেন আমি চাই এলাকার উন্নয়ন। দীর্ঘ বছর এই এলাকার জনগন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। বিগত সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা উন্নয়নের নামে লুটপাট করেছে। এখন সময় এসেছে পরিবর্তনের। মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়ন চায়। আমি জনগণের দোয়ায় তাদের সেই প্রত্যাশার প্রতিনিধিত্ব করতে চাই এবং সবসময় মানুষের পাশে থাকতে চাই। তিনি আরো বলেন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর আমি যখন ভোটারদের ঘরে ঘরে যাচ্ছি, তখন তারা আমার আগের কাজের প্রশংসা করছেন এবং আশা প্রকাশ করছেন আমি নির্বাচিত হলে উন্নয়নমূলক কাজ করব। তিনি তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেন। এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে- অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষিত ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও সরাসরি সহায়তা, নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে গুণগত পরিবর্তন এবং মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি। জনগণের দোয়া ও সমর্থন আমার সঙ্গে আছে- আমি আশাবাদী বিপুল ভোটে বিজয়ী হব। জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকার বলেন, প্রতিটি পাড়া মহল্লায় আমরা নিরলসভাবে প্রচার প্রচারণা করছি। এলাকায় ভোটারদের ভালো সারা পাচ্ছি। বিগত সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা উন্নয়নের নামে ব্যাপক লুটপাট করেছে। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। আমরা ন্যায়বিচার ও ইনসাব ভিত্তিক রাস্ট্র পরিচালনা করতে চায়। এজন্য চায় সকলের দোয়া ও সহযোগীতা। তিনি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে নদী-নালা, খাল-বিল সংরক্ষণ ও রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি যুব সমাজের জন্য উচ্চশিক্ষায় বিনামূল্যে স্কলারশিপ প্রদান, স্বাস্থ্যসেবা খাতের আধুনিকায়ন, পাঁচটি অ্যাম্বুল্যান্স সংযোজন, রাস্তাঘাট সংস্কার এবং এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করা হবে। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের ইশতেহার কেবল এক টুকরো কাগজ নয়, এটি আপনাদের সাথে করা আমাদের পবিত্র আমানত। জনগণের দোয়া ও সমর্থন আমার সঙ্গে আছে- জনগন আমাকে যে সারা দিচ্ছে আমি আশাবাদী এই নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হব। এ আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন: মো. জসিম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), জহিরুল হক খান (জাতীয় পার্টি), শাহীন খাঁন (জাতীয় নাগরিক পার্টি), জহিরুল হক চৌধুরী (গণ অধিকার পরিষদ) রাফি উদ্দিন (ইনসানিয়াত বিপ্লব )। তারও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার বলেছেন, নতুন নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে জনগণ এবার দুর্নীতিবাজদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৫৪ বছরে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল তারা শাসক হিসেবে জনগণকে শোষণ করেছে। আমরা ক্ষমতায় গেলে শাসক নয়, জনগণের খাদেম ও সেবক হিসেবে কাজ করবো।বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কসবা উপজেলার ৯ নম্বর কায়েমপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কায়েমপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর জমসিদ মিয়া।আতাউর রহমান সরকার আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে স্বাস্থ্য খাতে একটি বিপ্লব ঘটানো হবে ইনশাআল্লাহ। কসবা–আখাউড়া উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন, পাঁচটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স প্রদান এবং বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে মেধাবী ও যোগ্য করে গড়ে তোলা হবে। যারা বেকার ভাতার কথা বলে তারা মূলত তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে সবাইকে একসাথে নিয়ে বিজয় উদযাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, সমতল মাঠ তৈরি করেন,নির্বাচনের প্রচার কাজে যারা বাধা গ্রস্ত করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনুন।একটি সুষ্ঠ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন ছাড়া অন্য কিছু মানা হবেনা।তিনি বলেন, আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। তবে আমাদেরকে অহেতুক উসকানি দেওয়া হলে পরিস্থিতি ভালো হবে না। পাঁচটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে যেভাবে ছাত্ররা প্রত্যাখ্যান করেছে, ঠিক একইভাবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে।জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমীর কাজী ইয়াকুব আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ নির্বাচনী আসনের নির্বাচন পরিচালক কাজী সিরাজুল ইসলাম, কসবা উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর দ্বীন ইসলাম ভুইয়া,দাঁড়িপাল্লার প্রধান এজেন্ট শিবলী নোমানী, চট্রগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সাবেক ভিপি ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল বারী, কায়েমপুর ইউনিয়ন সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন সরকার, অধ্যাপক মোবারক হোসেন, আল আমিন সরকার, জেলা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক সাইফুল আল আরিফ, কসবা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদ মোল্লা, এনসিপির কসবা উপজেলা ১ নম্বর যুগ্ম সমন্বয়কারী তানভীর ইসলাম শাহীনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।আজ বিকাল ৩টায় বাদৈর ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
ভোক্তা অধিকার, আইন ও নীতিমালার আলোকে একটি অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ ঝকঝকে আলো, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, সুবিন্যস্ত তাক, হাসিমুখে কর্মচারী—সব মিলিয়ে আধুনিক সুপারশপ যেন মধ্যবিত্ত ও শহুরে মানুষের কাছে “স্বপ্নের বাজার”। কিন্তু এই স্বপ্নের আড়ালে কি ভোক্তা,বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম বা কনজিউমাররা ধীরে ধীরে প্রতারিত হচ্ছেন? প্রশ্নটি আজ আর আবেগের নয়; এটি যুক্তি, আইন ও নীতির আলোকে যাচাইয়ের দাবি রাখে।মূল্য-ভ্রান্তি ও ‘পারসেপশন ট্র্যাপ’সুপারশপগুলোর একটি বড় কৌশল হলো মূল্যকে বাস্তবের চেয়ে কম মনে করানো। ‘৳৯৯’, ‘৳১৯৯’—এমন মনস্তাত্ত্বিক মূল্য নির্ধারণ (Psychological Pricing) ভোক্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণ ক্রেতারা দামের শেষ অঙ্কের দিকে বেশি মনোযোগ দেয়, পুরো মূল্যের দিকে নয়। অথচ পাশের খোলা বাজারে একই পণ্য হয়তো কম দামে পাওয়া যায়। এটি সরাসরি প্রতারণা না হলেও ভোক্তার উপলব্ধিকে প্রভাবিত করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের একটি কৌশল।অফার ও ডিসকাউন্টের ফাঁদ‘Buy 1 Get 1’, ‘Mega Sale’, ‘Limited Offer’—এই শব্দগুলো জিউমারদের মধ্যে FOMO (Fear of Missing Out) তৈরি করে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অফার দেওয়ার আগে পণ্যের মূল মূল্য কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়, পরে “ছাড়” দেখানো হয়।বাংলাদেশের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ধারা ৪৪ অনুযায়ী, ভ্রান্ত বা প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু বাস্তবে এই ধারা প্রয়োগ দুর্বল হওয়ায় সুপারশপগুলো প্রায় দায়মুক্ত থেকে যায়।মেয়াদোত্তীর্ণ ও রি-প্যাকেজড পণ্যআরেকটি স্পর্শকাতর অভিযোগ হলো মেয়াদোত্তীর্ণ বা মেয়াদ ঘনিয়ে আসা পণ্য নতুন প্যাকেজে সাজিয়ে বিক্রি। জিউমাররা ব্র্যান্ডিং ও প্যাকেজিংয়ের প্রতি বেশি আস্থাশীল হওয়ায় অনেক সময় লেবেল বা এক্সপায়ারি ডেট ভালোভাবে যাচাই করেন না।এটি শুধু ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন নয়, বরং নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।ডিজিটাল ডেটা ও আচরণগত শোষণসুপারশপের লয়্যালটি কার্ড, অ্যাপ বা ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে জিউমারদের ক্রয়-আচরণের ডেটা সংগ্রহ করা হয়। পরে সেই ডেটা ব্যবহার করে টার্গেটেড অফার, নোটিফিকেশন ও বিজ্ঞাপন পাঠানো হয় যা অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটায় প্রলুব্ধ করে।বাংলাদেশে এখনও শক্তিশালী ডেটা প্রোটেকশন আইন কার্যকর না হওয়ায় এই আচরণ প্রায় অনিয়ন্ত্রিত।আইন আছে, প্রয়োগ নেই এটাই মূল সমস্যাভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, নিরাপদ খাদ্য আইন, বিজ্ঞাপন নীতিমালা সবই কাগজে আছে। কিন্তু মনিটরিং, জরিমানা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব সুপারশপগুলোর অনৈতিক চর্চাকে উৎসাহিত করছে। জিউমাররা সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও তা আইনি অভিযোগে রূপ নেয় খুব কমই।উপসংহার: স্বপ্ন ভাঙার নয়, সচেতন হওয়ার সময়সব সুপারশপই প্রতারক এমন বলা যেমন ভুল, তেমনি “সব ঠিক আছে” বলাও আত্মপ্রবঞ্চনা। জিউমারদের আবেগ, ডিজিটাল নির্ভরতা ও ব্র্যান্ড-আস্থাকে পুঁজি করে যে সূক্ষ্ম শোষণ চলছে, তা আইনি সংস্কার, কঠোর প্রয়োগ ও ভোক্তা সচেতনতা ছাড়া থামবে না।স্বপ্নের সুপারশপ তখনই সত্যিকারের স্বপ্ন হবে, যখন লাভের চেয়ে নৈতিকতা আর ভোক্তার অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়পুরহাট-১ আসন (জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি) থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সংসদ সদস্য প্রার্থী মোঃ মাসুদ রানা প্রধান শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।আজ পাঁচবিবি উপজেলার বিনধারা প্রাইমারি স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন,“আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু একজন প্রার্থী নির্বাচন নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও সম্মানের পক্ষে রায় দেওয়ার দিন।”টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতিজনসভায় মোঃ মাসুদ রানা প্রধান জানান, জয়পুরহাটকে একটি আধুনিক ও আত্মনির্ভরশীল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি একটি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবেন।তিনি বলেন,“এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকাসহ অন্য জেলায় যেতে বাধ্য করবে না। একই সঙ্গে এটি হাজারো তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।”স্বাস্থ্যসেবায় বাস্তব পরিবর্তনের অঙ্গীকারস্বাস্থ্যখাত নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন,“প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ৫০ শয্যার পরিবর্তে ১০০ শয্যা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে, যাতে চিকিৎসার অভাবে আর কোনো মানুষ কষ্ট না পায়।”,মানবিক মর্যাদা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদ্যোগ,সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি জানান,প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি করে সরকারি কবরস্থান স্থাপন করা হবে, যাতে গরিব ও অসহায় মানুষ মৃত্যুর পরও সম্মানের সঙ্গে দাফনের সুযোগ পায়।,সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রত্যেক ইউনিয়নে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি করে শ্মশানঘাট স্থাপন করা হবে, যাতে ধর্মীয় অধিকার পালনে কাউকে দূরে যেতে না হয়।উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নয়,মোঃ মাসুদ রানা প্রধান বলেন,উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা-ঘাট নয়। উন্নয়ন মানে মানুষের সম্মান, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করা।”তিনি ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান,জানিয়ে,বলেন,,“আসুন, ভয়ভীতি ও প্রলোভন উপেক্ষা করে ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীষে ভোট দিন। আপনার একটি ভোটই জয়পুরহাটের ভাগ্য বদলে দিতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে দিতে পারে।”স্লোগানে মুখর জনসভা ,শেষপর্যায়ে তিনি সবার কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় পুরো জনসভা ধানের শীষের বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় আনন্দঘন পরিবেশ আর শিশুদের কলকাকলীতে মুখরিত এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শিশুদের সাথে আনন্দ উৎসব ও উপহার বিতরণ অনুষ্ঠান ২০২৬। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) আচারগাঁও গ্রামের ভাষা সৈনিক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর নান্দাইল এরিয়া প্রোগ্রামের উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে এলাকার প্রায় ৫০ জন সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধী এবং নিবন্ধিত শিশুর মাঝে উপহার হিসেবে কম্বল বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়। সংস্থাটি জানায়, এই প্রকল্পের আওতায় পর্যায়ক্রমে নান্দাইল উপজেলার মোট ৪০০০ হাজার শিশুর মাঝে এই উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হবে। হাড়কাঁপানো শীতে নতুন কম্বল হাতে পেয়ে শিশুদের চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা যায়। নান্দাইল ওয়ার্ল্ড ভিশন প্রোগ্রাম অফিসার অর্পনা ঘাগ্রার সভাপতিত্বে ও ঘাস ফুল শিশু ফোরামের সভাপতি ফারদীন মাশরুর এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শফিকুল ইসলাম প্রধান শিক্ষক ভাষা সৈনিক উচ্চ বিদ্যালয়, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঃ হান্নান আল আজাদ সভাপতি বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব নান্দাইল, উপস্থিত ছিলেন এ,কে রমিজ উদ্দিন আহমেদ সিনিয়র সহকারী শিক্ষক নান্দাইল পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, মানসী মোধক প্রোগ্রাম অফিসার ওয়ার্ল্ড ভিশন নান্দাইল, সাংবাদিক খাইরুল ইসলাম, সাংবাদিক মাহবুব আলম, সাংবাদিক হুমায়ুন কবির,ডিজিটাল প্রেসক্লাব, রওশন আনজুম নুরিন জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার, সুমন ঝুবি স্পন্সরশীপ এন্ড চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার, কৃঞ্জলতা দ্রং স্পন্সরশীপ অফিসার বক্তব্য রাখেন ঘাস ফুল যুব ফোরাম এর সভাপতি নুসরাত জাহান সাথী। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মুখে হাসি ফোটানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। বিশেষ অতিথি তার বক্তব্যে বলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় শিশুদের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। অনুষ্ঠানে শিশুরা কেক কাটে এবং নাচ, গান, দলীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ করে আনন্দ চিত্তে উপহার সামগ্রী নিয়ে শিশুরা বাড়িতে ফিরে যায়।
নড়াইলে প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্তের শেষ স্মৃতি চিহ্নটুকু হারিয়ে যেতে বসেছে। ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্ত ১৯১১ সালের (৬ জুন) তাঁর পিতা সত্যরঞ্জন গুপ্তের কর্মস্থল কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। জন্মস্থান কলকাতায় হলেও তাঁর পৈত্রিক নিবাস নড়াইলের লোহাগড়ার উপজেলার ইত্না গ্রামে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান,চরম অবহেলায় নিমজ্জিত প্রখ্যাত এই বাঙ্গালি সাহিত্যিকের পৈত্রিক বাড়িটি এখনও অরক্ষিত। ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্তের শেষ স্মৃতি চিহ্নটুকু হারিয়ে যেতে বসেছে।ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় যে, ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্ত চাকরিজীবী পিতার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান কালেই গাইবান্ধা হাইস্কুলসহ বেশ কয়েকটি স্কুলে তিনি পড়াশুনা করেন। অবশেষে ১৯৩০ সালে তিনি কোন্ন নগর হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরবর্তীতে কৃষ্ণনগর কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই তিনি আই. এস. সি পাস করে ডাক্তারি পড়ার জন্যে কারমাইকেল মেডিকেল কলেজে (বর্তমানে আর. জি. কর মেডিকেল কলেজ) ভর্তি হন।ডাক্তারী পাস করে বেশ কিছুদিন তিনি চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত হন। অতঃপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সামরিক বাহিনীর ডাক্তার হিসেবে যোগ দেন। চাকরি জীবনের বাধ্যবাধকতা তাঁর কাছে বিরক্তিকর মনে হওয়ায় তিনি এ চাকরি ত্যাগ করে কলকাতায় ব্যক্তিগত ভাবে আবার ডাক্তারী শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কলকাতায় বিশেষ পরিচিত হয়ে ওঠেন।নীহাররঞ্জন গুপ্তের সাহিত্যে হাতে খড়ি হয়ে ছিল সুদূর শৈশবেই। ষোল বছর বয়সেই তাঁর প্রথম লেখা উপন্যাস ‘রাজকুমারী’ পত্রিকায় ছাপা হয়। ডাক্তার নীহাররঞ্জন গুপ্ত পেশায় চিকিৎসক হলেও মানব মানবীর হৃদয়ের ঘাত-প্রতিঘাত ও মানবিক দ্বন্ধ-সংঘাতের একজন সুচারু রূপকার ছিলেন। রহস্য উপন্যাস লেখায় তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। কেবলমাত্র রহস্য উপন্যাস নয়, তাঁর সামাজিক উপন্যাস গুলি সুখপাঠ্য যা-পাঠককুলের হৃদয় আকৃষ্ট করে।তাঁর লিখিত উপন্যাসের সংখ্যা দুইশতেরও অধিক। তাঁর প্রকাশিত উপন্যাস গুলির মধ্যে ‘মঙ্গলসূত্র’, ‘উর্বশী সন্ধ্যা’, ‘উল্কা’, ‘বহ্নিশিখা’, ‘অজ্ঞাতবাস’, ‘অমৃত পাত্রখানি’, ‘ইস্কাবনের টেক্কা’, ‘অশান্ত ঘূর্ণি’, ‘মধুমতি থেকে ভাগীরতী’, ‘কোমল গান্ধার’, ‘অহল্যাঘুম’, ‘ঝড়’, ‘সেই মরু প্রান্তে’, ‘অপারেশন’, ‘ধূসর গোধূলী’, ‘উত্তর ফাল্গুনী’, ‘কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী’, ‘কা লোভ্রমর’, ‘ছিন্নপত্র’, ‘কালোহাত’, ‘ঘুম নেই’, ‘পদাবলী কীর্তন’, ‘লালু ভুলু’, ‘কলঙ্ককথা’, ‘হাসপাতাল’, ‘কজললতা’, ‘অস্থি ভাগীরথী তীরে’, ‘কন্যাকুমারী’, ‘সূর্য তপস্যা’, ‘মায়ামৃগ’, ‘ময়ূর মহল’, ‘বাদশা’, ‘রত্রি নিশীথে’, ‘কনকপ্রদীপ’, ‘মেঘকালো’, ‘কাগজের ফুল’, ‘নিরালাপ্রহর’, ‘রাতের গাড়ী’, ‘কন্যাকেশবতী’, ‘নীলতারা’, ‘নূপুর’, ‘নিশিপদ্ম’, ‘মধুমিতা’, ‘মুখোশ’, ‘রাতের রজনী গন্ধা’ ও কিশোর সাহিত্য সমগ্র উল্যেখযোগ্য।ডা. নীহার রঞ্জন গুপ্তের লিখিত বহু উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। আমাদের চলচ্চিত্র জগৎকে তিনি সুসমৃদ্ধ করেছে। তাঁর কালজয়ী উপন্যাস ‘লালুভুলু’ পাঁচটি ভাষায় চিত্রায়িত হয়েছে। ১৯৮৩ সালে উপন্যাসটি বাংলাদেশেও চিত্রায়িত হয় এবং দর্শক কুলের প্রশংসা অর্জন করে। নীহার রঞ্জনের অনেক উপন্যাস থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস উল্কা দীর্ঘদিন ধরে থিয়েটারের দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে।চিকিৎসক হিসেবে অতি কর্ম চঞ্চল জীবনযাপনের মধ্যেও নীহার রঞ্জন রেখে গেছেন অসংখ্য সাহিত্যধর্মী সৃষ্টি,যা আপন সত্তায় ভাস্কর হয়ে থাকবে। নীহার রঞ্জন গুপ্ত ১৯৮৬ সালের ২০ জানুয়ারী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে নোমান হোম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড কারখানার ভিতরে পৌরসভার ময়লার গাড়ীর নিচে চাপা পড়ে নিরাপত্তা প্রহরী জসিম আহম্মেদ (৪৪) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ৮টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার আনসার রোড (কলিম উদ্দিন চেয়ারম্যান) মোড়ে ওই কারখানার ভিতরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।নিহত নিরাপত্তা প্রহরী জসিম আহম্মেদ ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মশাখালী ইউনিয়নের চাইরবাড়িয়া গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পূর্বখন্ড এলাকার আব্দুল মান্নানের বাড়ীতে ভাড়া থেকে নোমান শিল্প গ্রুপের নোমান হোম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড কারখানায় নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে চাকরি করতো।শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, শ্রীপুর পৌরসভার ময়লার গাড়ি কারখানা থেকে ময়লা নেওয়ার জন্য কারখানায় প্রবেশ করছিল। কারখানার ভেতরে ১নং গেইটের উত্তর পাশে রাস্তার উপর দায়িত্ব পালন করছিল নিরাপত্তা প্রহরী জসিম আহম্মেদ। গাড়িটি কারখানায় প্রবেশের সময় দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরীকে ধাক্কা দিলে গাড়ীর চাকায় মাথা পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ পৌরসভার ময়লার গাড়ি আটক করলেও চালক পালিয়ে গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।নোমান শিল্প গ্রুপের নোমান হোম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ইকবাল হোসেনকে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমদ জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে
নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর ওপর সেতু: দেড় বছরের কাজ আট বছরেও শেষ হয়নি। নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নবগঙ্গা নদীর ওপর আট বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ।নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নবগঙ্গা নদীর ওপর সেতুর নির্মাণ ব্যয় ছিল ৬৫ কোটি টাকা। নকশা জটিলতা ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় সেতুটির ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬ কোটি টাকা। দেড় বছরে মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৮ বছরেও শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে নদী পারাপার হচ্ছে এলাকাবাসী। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, ৬৫১ দশমিক ৮৩ মিটার দীর্ঘ ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থের বারইপাড়া পিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণে প্রাথমিক চুক্তি মূল্য ছিল ৬৫ কোটি টাকা। বারবার মেয়াদ বৃদ্ধি ও নকশা পরিবর্তনের কারণে বর্তমান নির্মাণ ব্যয় দাড়িয়েছে ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। সড়ক পথে নড়াইল সদরের সঙ্গে কালিয়া উপজেলাসহ অন্তত তিনটি জেলার যোগাযোগ সহজ করতে ২০১৮ সালে এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সবশেষ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত নতুন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে নদীর দুই তীরের সংযোগ সড়কসহ ১১টি পায়ার ও ১১টি স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। তবে, মাঝ নদীর তিনটি পিলার ও তিনটি স্টিল স্প্যান বসানোর কাজ এখনো বাকি রয়েছে।কালিয়া গ্রামের মিলন শেখ বলেন, “উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এই অঞ্চলে কোনো শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য শহরে নিতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এলাকায় কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে পুলিশ সময় মতো আসতে পারে না; আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস কিংবা জরুরি রোগী পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত পৌঁছাতে পারে না। খেয়াঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় সাধারণ লোকজকে।”মাউলি গ্রামের ডা. অসীম কুমার অধিকারী বলেন, “বারইপাড়া সেতুটি নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। কাজ শুরুর ৮ বছর পার হলেও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। সেতুটি চালু হলে কালিয়াবাসী নড়াইল সদরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে উপকৃত হতো।২০১৮ সালে প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স জামিল ইকবাল অ্যান্ড মঈনুদ্দিন বাঁশি কনস্ট্রাকশন কোম্পানি’ ৬৫ কোটি টাকায় কাজটি শুরু করে।বাল্কহেডের ধাক্কায় ৯ নম্বর পিলারটি দুইবার নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর মূল অংশের চারটি পায়ার ও তিনটি স্প্যান অসম্পূর্ণ রেখেই ৬১ কোটি টাকা তুলে নিয়ে কাজ শেষ করে তারা। পরবর্তীতে দ্বিতীয় মেয়াদে ‘কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজিস্ট লিমিটেড’ বাকি অংশের কাজ পায়। বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ খান লিটন বলেন, “বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ৮৬ দশমিক ৭৩ মিটার স্টিল আর্চ স্প্যানসহ আরো দুটি স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। কিছু জটিলতার কারণে স্টিল স্প্যান বিদেশ থেকে আনতে দেরি হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে দুটি স্প্যান বসানো শেষ হবে।”নড়াইল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “নকশার ত্রুটি সংশোধন করে নতুন কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি, এ বছরের জুনের মধ্যেই কাজ শেষ করে সেতুটি জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।
নওগাঁর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নওগাঁর টানা অভিযানে আন্তঃজেলা কুখ্যাত ডাকাত চক্রের ৬ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাতির শিকার হওয়া ট্রাক, অপহৃত ট্রাকচালক ও হেলপার এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত আরেকটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে।ডাকাতির ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার সময় প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।জানা যায়, গত ২২ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলার বদরগঞ্জ এলাকা থেকে ট্রাকচালক মারুফ ও তার হেলপার শামীম একটি ট্রাকে (ঢাকা মেট্রো-ট ১৬-০১৩৮) করে প্রায় ২৫০ বস্তা (৫০০ মন) ধান বোঝাই করে নওগাঁ জেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।পরদিন রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে নওগাঁ সদর থানার শেষ সীমানার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের নির্জন সড়কে পৌঁছালে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল পিছন দিক থেকে আরেকটি ট্রাক দিয়ে ওভারটেক করে সামনে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় ডাকাতরা ট্রাকের কাচ ভেঙে চালক ও হেলপারকে মারধর করে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং ধানসহ ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায়।ঘটনাটি জানার সাথে সাথেই পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সদর থানা, বদলগাছি থানা ও সদর সার্কেলের পুলিশ সদস্যরা মাঠে নামেন। তদন্তের এক পর্যায়ে পাওয়া তথ্যে বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার মোকামতলা তদন্ত কেন্দ্রে একটি ট্রাক ও একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক রাখা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ডিবি নওগাঁর একটি টিম সেখানে পৌঁছে আটক ব্যক্তি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০) কে জিজ্ঞাসাবাদ করে ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে, সে ডাকাতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এরপর আরিফুল ইসলামকে হেফাজতে নিয়ে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্যাপুর থানায় অভিযান চালিয়ে মো. গোলাপ (২৪), লাভলু (২৮) কে আরও দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে।প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর এলাকায় ডাকাত দলের সর্দার মো. সামিউল ইসলাম (৩০) কে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে গেলেও তার ভাড়া বাসা থেকে ডাকাতি হওয়া ট্রাকের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া, সাভার ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) নেত্রকোনা জেলা অফিসের আয়োজনে, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক স্টেকহোল্ডার কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দিনব্যাপি এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।এ উপলক্ষে দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুহম্মদ রাফিউল ইসলাম তালুকদার এর সভাপতিত্বে, প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মিজানুর রহমান, অফিসার ইনচার্জ কামরুল হাসান, এসডিএফের জেলা ব্যবস্থাপক মো: মোশারফ হোসেন, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আহমেদ তাকি তাহমিদ, জেলা কর্মকর্তা মাসুদা আক্তার, দুর্গাপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ অমিত দত্ত, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ বজলুর রহমান আনসারী, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ইসলাম মীম, উপজেলা সমবায় অফিসার বিজন কান্তি ধর, দুর্গাপুর প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, গ্রাম সমিতির স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সহায়তা কমিটির আহবায়ক রোকসানা পান্না, জেসমিন আক্তার, নাজমা আক্তার, নূরে জান্নাত প্রমুখ। এতে সরকারি কর্মকর্তা ও অংশগ্রহনকারীদের নিয়ে দিনব্যপি কর্মশালায় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক ৫০টি গ্রাম সমিতির আহবায়ক অংশ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ০২নং চন্ডিগড় ক্লাস্টার অফিসার মো: সামাদ মিয়া। কর্মশালায় স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি ও পুষ্টি বিষয়ক খাদ্য উৎপাদন ও গ্রহণ বিষয়ে সচেতনতামুলক বক্তব্য রাখেন উপস্থিত সকলেই।
রাজধানীর গুলশানের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং জুলাই আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে ‘মামলা বাণিজ্য’ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে আলোচিত তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে গাজীপুরের টঙ্গীর টেকপাড়া এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সুরভী গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে ভাইরাল পরিচিতি পেয়েছিলেন।ঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন এই সুরভী। সম্প্রতি গুলশানের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন যে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন হত্যা মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সুরভী ও তাঁর সহযোগীরা ধাপে ধাপে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মামলার আসামি বানানো, পুলিশি হয়রানি ও গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে এবং পরবর্তীতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ‘মীমাংসা’ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়েছিল।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে যে, এই চক্রটি কেবল ওই ব্যবসায়ীই নয়, বরং বিভিন্ন প্রভাবশালী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে মোট প্রায় ৫০ কোটি টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সুরভী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভাইরাল পরিচিতি ব্যবহার করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে সখ্য গড়ে তুলতেন এবং পরবর্তীতে সেটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আবেগ ও স্মৃতিকে পুঁজি করে এমন নজিরবিহীন অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মূলত আন্দোলনের চেতনাকে কলঙ্কিত করে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের অপরাধেই তাঁর বিরুদ্ধে এই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
দ্রুত এবং সহজে খবর পড়তে আমাদের অ্যাপটি ব্যবহার করুন।
সবার আগে ব্রেকিং নিউজ এবং গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।