সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) নেত্রকোনা জেলা অফিসের আয়োজনে, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক স্টেকহোল্ডার কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দিনব্যাপি এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।এ উপলক্ষে দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুহম্মদ রাফিউল ইসলাম তালুকদার এর সভাপতিত্বে, প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মিজানুর রহমান, অফিসার ইনচার্জ কামরুল হাসান, এসডিএফের জেলা ব্যবস্থাপক মো: মোশারফ হোসেন, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আহমেদ তাকি তাহমিদ, জেলা কর্মকর্তা মাসুদা আক্তার, দুর্গাপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ অমিত দত্ত, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ বজলুর রহমান আনসারী, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ইসলাম মীম, উপজেলা সমবায় অফিসার বিজন কান্তি ধর, দুর্গাপুর প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, গ্রাম সমিতির স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সহায়তা কমিটির আহবায়ক রোকসানা পান্না, জেসমিন আক্তার, নাজমা আক্তার, নূরে জান্নাত প্রমুখ। এতে সরকারি কর্মকর্তা ও অংশগ্রহনকারীদের নিয়ে দিনব্যপি কর্মশালায় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক ৫০টি গ্রাম সমিতির আহবায়ক অংশ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ০২নং চন্ডিগড় ক্লাস্টার অফিসার মো: সামাদ মিয়া। কর্মশালায় স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি ও পুষ্টি বিষয়ক খাদ্য উৎপাদন ও গ্রহণ বিষয়ে সচেতনতামুলক বক্তব্য রাখেন উপস্থিত সকলেই।
রাজধানীর গুলশানের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং জুলাই আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে ‘মামলা বাণিজ্য’ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে আলোচিত তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে গাজীপুরের টঙ্গীর টেকপাড়া এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সুরভী গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে ভাইরাল পরিচিতি পেয়েছিলেন।ঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন এই সুরভী। সম্প্রতি গুলশানের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন যে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন হত্যা মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সুরভী ও তাঁর সহযোগীরা ধাপে ধাপে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মামলার আসামি বানানো, পুলিশি হয়রানি ও গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে এবং পরবর্তীতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ‘মীমাংসা’ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়েছিল।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে যে, এই চক্রটি কেবল ওই ব্যবসায়ীই নয়, বরং বিভিন্ন প্রভাবশালী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে মোট প্রায় ৫০ কোটি টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সুরভী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভাইরাল পরিচিতি ব্যবহার করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে সখ্য গড়ে তুলতেন এবং পরবর্তীতে সেটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আবেগ ও স্মৃতিকে পুঁজি করে এমন নজিরবিহীন অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মূলত আন্দোলনের চেতনাকে কলঙ্কিত করে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের অপরাধেই তাঁর বিরুদ্ধে এই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং আত্মনির্ভরশীল মানবসম্পদ তৈরি করার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সার্বজনীন গ্রুপের উদ্যোগে অলরাউন্ডার প্রশিক্ষণের সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।সার্বজনীন গ্রুপের অলরাউন্ডার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির (২০ তম সেশন) অংশ হিসেবে অষ্টম এই সেমিনারটি আজ ২০ ডিসেম্বর নবীনগর পৌর শহরের আয়েশা আমজাদ টাওয়ারের তৃতীয় তলায়*অনুষ্ঠিত হয়।আয়োজক সূত্র জানায়, তরুণদের ইতিবাচক মাইন্ডসেট গড়ে তোলা, দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা হওয়ার বাস্তব দিকনির্দেশনা দিতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। এতে মোট ৫৬ জন উদ্যমী তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করছেন, যারা নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সার্বজনীন গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন শান্তি বলেন, “চাকরির পেছনে ছুটে নয়, নিজেদের ভেতরের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান সময় তরুণদের জন্য সম্ভাবনার সময়। সঠিক প্রশিক্ষণ, ধৈর্য ও পরিশ্রম থাকলে যে কেউ সফল উদ্যোক্তা হতে পারে।”তিনি আরও বলেন, সার্বজনীন গ্রুপ তরুণদের পাশে থেকে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ, দিকনির্দেশনা ও পরামর্শের মাধ্যমে একটি দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তুলতে কাজ করছে।সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন সার্বজনীন গ্রুপের পরিচালক তানজিনা আক্তার শিলা, প্রশিক্ষক রুমা আক্তার, সমন্বয়ক জামাল হোসেন পান্না, প্রযুক্তিবিষয়ক কর্মকর্তা এস. এ. রুবেল সহ সংশ্লিষ্টরা। তারা প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে বিভিন্ন অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।আয়োজকরা জানান, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ডিজিটাল দক্ষতা, যোগাযোগ কৌশল, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং বাস্তব ব্যবসায়িক ধারণা দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা, পরামর্শ ও নেটওয়ার্কিং সাপোর্ট দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।সার্বজনীন গ্রুপের এই উদ্যোগ নবীনগরসহ আশপাশের এলাকার তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা মনোভাব সৃষ্টি, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যীশু খ্রিষ্টের জন্মতিথি উপলক্ষে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বড়দিনকে সামনে রেখে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রাক বড়দিন উৎসব পালিত হয়েছে। বৃহঃস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে ‘‘রুশা বাংলাদেশ’’ এর আয়োজনে আলোচনা সভা ও গারো উদ্যোক্তাদের উপহার সামগ্রী বিতরণ মধ্যদিয়ে এ উৎসব পালিত হয়।এ উপলক্ষে বিরিশিরি কারিগরি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে, রুশার নির্বাহী পরিচালক এম এন আলম এর সভাপতিত্বে, পাস্টার পঙ্কজ মারাক এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন, রেভারেন্ট ফাদার পাওয়েল কচিওলেক। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্যদেন, রেভারেন্ট সার্জেন্ট রিছিল, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, অধ্যক্ষ সাফিয়া সুলতানা, একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন, প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, এনজিও সমন্বয় পরিষদের সভাপতি রুপন কুমার সরকার, পাস্টার সুমেন্ত চিরান প্রমুখ।আলোচনা শেষে, উপস্থিত গারো উদ্যোক্তাদের মাঝে খাবার, প্রাক বড়দিনের উপহার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষার জন্য প্রভু যীশুর কাছে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও এলাকা উন্নয়নের দাবিতে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার শেরনগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বিশাল গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল। সোমবার (৮ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকাল ৩টায় শেরনগর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, প্রেসিডিয়াম সদস্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।তিনি বলেন, “জনগণের ক্ষোভ আজ তীব্র। ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ছাড়া বিকল্প নেই।”সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন মাওলানা রেজাউল করীম, সভাপতি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বেলকুচি থানা শাখা।সমাবেশে নেতৃত্ব দেন মুফতী হাজী শেখ মুহাম্মাদ নুরুন নাবী, বেলকুচি-চৌহালী-এনায়েতপুর আসনের গণমানুষের নেতা ও সিরাজগঞ্জ-৫ সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।তিনি বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষ বহুদিন ধরে অবহেলিত। আমরা নির্বাচিত হলে বেলকুচি-চৌহালী-এনায়েতপুরকে আধুনিক, সুরক্ষিত ও শিল্পবান্ধব এলাকায় রূপান্তর করব।”এসময় আরো বক্তব্য রাখেন— মাওলানা আব্দুস সামাদ, সভাপতি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিরাজগঞ্জ জেলা, মাওলানা মোতারেবুর রহমান সাঈফী, সেক্রেটারি, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, সিরাজগঞ্জ জেলা, প্রফেসর আবদুস সাত্তার, সভাপতি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, চৌহালী উপজেলা, আলহাজ্ব মুফতী আলমগীর হুসাইন, সভাপতি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনায়েতপুর থানাসমাবেশের মূল দাবি মধ্যে রয়েছেন- বেলকুচিতে শিল্প গ্যাস সংযোগ প্রদান, মুকুন্দগাঁতীতে স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ, বেলকুচি-চৌহালী-এনায়েতপুর রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, তাঁতশিল্প উন্নয়ন ও সরকারি আর্থিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ, প্রকৃত কৃষকদের সার, বীজ, কৃষি উপকরণ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি বিনামূল্যে প্রদান।বক্তারা বলেন— এই দাবিগুলো পূরণ না হলে জনগণ কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। তারা আরও জানান, এলাকার নদীভাঙন, অবকাঠামোগত দুরবস্থা, তাঁত শিল্পে সংকট এবং কৃষকদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান জরুরি।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বেলকুচি, চৌহালী ও এনায়েতপুর থানা শাখার যৌথ উদ্যোগে এ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশ শেষে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শেরনগর হয়ে মুকুন্দগাতী বাজার এলাকা প্রদক্ষিণ করে আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদে এসে সমাপ্ত হয়।
নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের শ্মশানঘাট এলাকায় সোমেশ্বরী নদী থেকে অবৈধপন্থায় বালু উত্তোলনের অপরাধে দুজনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান। এ সময় আটককৃত দুজন শাফায়েত (২১) ও শফিকুল (১৯) কে ৭দিনের কারাদন্ড প্রদান করা হয়।জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে সোমেশ্বরী নদী থেকে বালু চুরির ঘটনা ঘটছে। এমন গোপন তথ্য ও সংবাদের ভিত্তিতে দুর্গাপুর উপজেলার শ্মশানঘাটে এলাকায় সোমেশ্বরী নদীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ঘটনাস্থল হতে বালু উত্তোলন করে ইজিবাইকে বালু ভর্তি করা অবস্থায় দুজনকে আটক করা হয়। অপরাধ স্বীকার করায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ৪(খ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১) ধারায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে সাত দিনের কারাদন্ড প্রদান করা হয়।এ অভিযানের বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো.মিজানুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমেশ্বরী নদীতে বালু চুরি টেকাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসময় হাতেনাতে দুজনকে আটক করে দিনের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। বালু চুরি রোধে আরো কঠোর অবস্থানে যাবে উপজেলা প্রশাসন। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ময়মনসিংহের নান্দাইলে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবীতে ২ ঘন্টা কর্মবিরতি পালন করা হয়।আজ (৩০ নভেম্বর) রবিবার সকাল ০৯টা হতে ১১টা পর্যন্ত (২ ঘণ্টা) কর্মবিরতি পালন করছে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা।বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষে এই কর্মবিরতি পালন করা হয়। কর্মবিরতি কারণে উপজেলা চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ব্যাপক ভীড় ও উত্তেজনা দেখা যায়। সঠিক সময় চিকিৎসা না পাওয়া অনেকে ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।এছাড়াও আজকের এর কর্মবিরতির পূর্বের কোন নির্দেশনা না থাকায় ভোগান্তির শিকার হয়েছে অনেকে। কর্মবিরতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন করে তাদের মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি দিয়ে সচ্ছল জীবন যাপন করার সুযোগ পাওয়ার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।সমাবেশে নান্দাইল উপজেলা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টেকনোলজিস্ট মোঃ আল-আমীন,ফার্মাসিস্ট মোঃ আতিকুর রহমান, ফার্মাসিস্ট জুলফিকার সহ প্রমুখ।এছাড়াও তারা আরও বলেন, তাদের দাবীসমূহ বাস্তবায়ন না হলে আবারো কর্মবিরতি পালন করবেন, ০৩/১২/২৫ইং সকাল ৮:০০ টা থেকে ১২:০০ টা পর্যন্ত,অর্ধ কর্ম দিবস ও ০৪/১২/২০২৫ইং পূর্ণ-কর্ম দিবস। পরে তাদের দাবী নিয়ে পুনরায় স্মারকলিপি দেন নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শামীমা সুলতানার কাছে। তিনি তাদের দাবীর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে সবরকম সহায়তায় করার আশ্বাস দেন এবং স্মারকলিপি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন।
নেত্রকোণার পূর্বধলায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত উফশী জাতের বীজধান ও সংরক্ষণ ড্রাম বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকালে ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের বাদেবিন্না গ্রামে এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে এবং ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয় নেত্রকোণার বাস্তবায়নে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।‘প্রযুক্তি গ্রাম’ হিসেবে মনোনীত এলাকায় আধুনিক ধান উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ক কার্যক্রমেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নেত্রকোণার উপপরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ড. আনোয়ার হোসেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপপরিচালক মকসুদুল হক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জোবায়ের ইসলাম এবং প্রকল্পের বিজ্ঞানী মো. খালিদ হাসান সৌরভ ও হুর-ই ফেরদৌসী তাজিন।বক্তারা বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষির টেকসই উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর চাষাবাদ অপরিহার্য। কৃষকদের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে।”অনুষ্ঠানে শতাধিক কৃষক-কৃষাণীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন শাখার আহবায়ক কমিটির উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পটিয়া উপজেলা'র গৈইড়ালার টেক ও শাহগদি মার্কেট এলাকায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের আহবায়ক মোঃ তসলিম উদ্দীন আনিস -এর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব শরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ পটিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি হাজ্বী মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন।এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি ও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সহ-সভাপতি গাজী মোঃ আবু বক্কর, সহ-সভাপতি শওকত আকবর, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ইরফান, জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব জাহাঙ্গীর আলম, পটিয়া উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নেছর উদ্দিন রিফাত ও সদস্য কামাল উদ্দিন, মোঃ আলম,।এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মো. শাহেদ, যুবদল নেতা বাচ্চু, মন্জু, শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ হোসেন, মোহাম্মদ মামুন, জাহাঙ্গীর আলম, সাজ্জাদ হোসেন টিপু, মহিউদ্দিন, আনোয়ার। এছাড়া সিনিয়র সদস্য নূর নবী, আবু তাহের, নয়ন, আজাদ, জাহেদ, আকিব এবং ছাত্রদল নেতা আসফি, ইমন, আছিফ প্রমুখ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় এবছর ধানের আবাদ হয়েছে মোট ২৫,১৮৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ শতাংশ ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মাঠে দেখা গেছে—ধানের বাম্পার ফলনের আশা থাকলেও কৃষকদের মনোযোগ এখন ফলনের পাশাপাশি টেকসই চাষাবাদে।পীরগঞ্জের ভোমরাদহ ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল করিম (৪৮) জানান, “আগে আমরা দেশি জাতের ধান বেশি চাষ করতাম। কিন্তু এখন আবহাওয়া একেবারে উল্টেপাল্টে গেছে। কখন বৃষ্টি হবে, কখন খরা—কিছুই বোঝা যায় না। তাই ব্রি-৫১ বা ব্রি-৩৪ জাতের ধান লাগাই, যাতে একটু নিশ্চিন্ত থাকা যায়।”একই কথা জানালেন ৮ নং দৌলতপুর ইউনিয়নের সাগুনী গ্রামের কৃষক দেবেন্দ্রনাথ (৩২)। তিনি বলেন, “স্বর্ণা জাতটা একটু কম সময়ে ফলন দেয়, পানি কম লাগায়, আর রোগবালাইও কম। তাই এখন অনেকেই এই জাতের ধান লাগাচ্ছে।”উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, "এবছর পীরগঞ্জে প্রধানত ব্রি-৫১, স্বর্ণা ও ব্রি-৩৪ জাতের ধান চাষ হচ্ছে। এগুলো তুলনামূলকভাবে খরা ও অতিবৃষ্টির মতো জলবায়ুগত চাপে সহনশীল।" তিনি আরও বলেন, “বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে আমাদের এলাকায় মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরণ পাল্টে যাচ্ছে। তাই অভিযোজনযোগ্য জাতের ধান চাষ করাই এখন সময়ের দাবি।”কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ব্রি-৫১ জাতের ধান গড়ে প্রতি হেক্টরে ৫.৫ থেকে ৬ টন পর্যন্ত ফলন দেয়। এই জাতের মূল সুবিধা হলো স্বল্প সময়ের মধ্যে পরিপক্বতা লাভ করা এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রা সহনশীলতা। ফলে জলবায়ুর অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও কৃষকের ক্ষতির আশঙ্কা কম।
দেশে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। অধ্যাদেশে গুমকে চলমান অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৪৭তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।বৈঠকে জাতীয় লজিস্টিক নীতির খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন এবং ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকাও অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া জাতীয় নগরনীতি নিয়ে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।প্রেস সচিব জানান, গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী আইন হিসেবে বিবেচিত হবে।তিনি বলেন, এই আইনের ফলে ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা দেশে গুমের রাজত্ব চালাতে পারবে না। কোনো গোপন আটক কেন্দ্র বা ‘আয়নাঘর’ আর তৈরি হবে না।অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গুমকে চলমান অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। গোপন আটক কেন্দ্র, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, স্থাপন ও ব্যবহারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করা হয়েছে।শফিকুল আলম বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুম-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অভিযোগ গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে বাধ্য থাকবে।অধ্যাদেশে ভুক্তভোগী, তথ্যদাতা ও সাক্ষীর নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ এবং আইনগত সহায়তা নিশ্চিতে স্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। গুম-সংক্রান্ত ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ ও ভুক্তভোগী পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য একটি বিশেষ তহবিল ও কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার গঠনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।প্রেস সচিব তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আগের সরকারের আমলে বাংলাদেশে গুমের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছিল।গঠিত গুম কমিশনে প্রায় ২ হাজার অভিযোগ এসেছে। তবে কমিশনের সদস্যদের হিসাবে প্রকৃত সংখ্যা ৪ হাজারেরও বেশি হতে পারে। তিনি বলেন, দেশে অনেক মানুষ আছেন, যারা নিখোঁজ হওয়ার পর আর ফেরেননি। আবার কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। বিএনপির অনেক কর্মী এখনও ফিরে আসেননি। এই বাস্তবতাই আইনটিকে জরুরি করে তুলেছে।তিনি আরো জানান, অধ্যাদেশটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ গত বছরের ২৯ আগস্ট জাতিসংঘের ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব অল পারসনস ফ্রম এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’-এ যোগ দেয়। সেই কনভেনশনের নীতিমালা অনুযায়ীই এই আইনটি তৈরি করা হয়েছে।তিনি বলেন, বাংলাদেশ গত বছরের ২৯ আগস্ট এই আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সদস্য হয়। সে অনুযায়ী আমরা কনভেনশনের মান বজায় রেখে এই আইনটি প্রণয়ন করেছি।প্রেস সচিব জানান, গত ৩০ অক্টোবর অধ্যাদেশটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্কের পর বিভিন্ন প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করে এটি চূড়ান্ত আকারে আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে অধ্যাদেশটি অনুমোদিত হয়।শফিকুল আলম বলেন, দেশের যোগানশৃঙ্খলা ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় লজিস্টিক নীতি অনুমোদন পেয়েছে। একইসঙ্গে ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে জাতীয় নগরনীতি নিয়ে আলোচনায় ঐকমত্য হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সূত্র : বিএসএস।
সরকার ‘জাতীয় লজিস্টিকস নীতি-২০২৫’ অনুমোদন করেছে। নীতিমালাটি দেশের পরিবহন, সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আধুনিক, দক্ষ ও টেকসই করার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৪৭তম বৈঠকে এই নীতি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, ‘একটা নীতিমালা থাকলে সরকার তার কাজগুলো ঠিকভাবে করতে পারে, একটা নির্দেশনা পায়। আজকের নীতিমালাটি লজিস্টিক খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিকনির্দেশনা।’বিদেশি বিনিয়োগ আসবে এবং বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় আরো বৃদ্ধি পাবে।’প্রেসসচিব জানান, ‘বর্তমানে দেশের প্রধান নৌবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো কোনো সময় পণ্য রপ্তানিতে ১১ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। এই লজিস্টিকস নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে পারলে পণ্য পরিবহন ও প্রাপ্যতা অনেক দ্রুত হবে এবং রপ্তানি কার্যক্রম আরো সহজ হবে।’তিনি আরো বলেন, ‘২০২৪ সালে এ ধরনের একটি নীতি করা হয়েছিল।পরে তা পুনর্মূল্যায়ন করে দেখা যায়, সেটি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। পরবর্তীতে জনপ্রশাসনসচিব এহসানুল হকের নেতৃত্বে একটি কমিটি নতুনভাবে খসড়া প্রণয়ন করে।’নীতিমালার মূল লক্ষ্য সম্পর্কে প্রেসসচিব বলেন, ‘২০৫০ সালের মধ্যে লজিস্টিক খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে রেলওয়ে ও নৌপরিবহন খাতে। দেশের প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে, যার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।’তিনি জানান, নীতিমালায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) মডেলে বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।