আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনার্সে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়া মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহরিয়ার হোসেন। তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সার্বিক সহযোগিতায় ওই শিক্ষার্থীর অনার্সে ভর্তি সম্পন্ন হয়েছে।জানা যায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দরিদ্র পরিবারের সন্তান ঐই শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় স্থান পেলেও ভর্তি ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ জোগাড় করতে ব্যর্থ হন। ফলে উচ্চশিক্ষা নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় পড়ে যান। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ফেসবুক গ্রুপে প্রকাশিত হলে তা শাহরিয়ারের নজরে আসে। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করে অনলাইন ভর্তি ফি পরিশোধ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, বিভাগীয় যোগাযোগ এবং সরাসরি ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সার্বিক সহায়তা করেন।এ বিষয়ে মো. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, “শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার। অর্থাভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে যাওয়া উচিত নয়। রাজনীতি যদি মানুষের কল্যাণে কাজে না আসে, তবে সেই রাজনীতির কোনো মূল্য নেই। আমরা চাই ক্যাম্পাসে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠুক, যেখানে শিক্ষার্থীরা একে অপরের শক্তি ও ভরসা হবে।”তিনি আরও বলেন, “আজ যাকে সহযোগিতা করা হলো, সে একদিন নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে অন্যের পাশে দাঁড়াবে-এই বিশ্বাস থেকেই আমরা কাজ করি। ভবিষ্যতেও কোনো শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে পড়লে সাধ্য অনুযায়ী পাশে থাকব।”ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, গ্রাম থেকে শহরে এসে ভর্তি হওয়া ও আবাসনের ব্যবস্থা করা আমার জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। তিনি মেসের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।”এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “রাজনীতি শুধু মিছিল-মিটিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়,মানুষের পাশে দাঁড়ানোও রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অর্থাভাবে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাক-এটি আমরা চাই না।”শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, “শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণে আমরা সবসময় সোচ্চার। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে অনার্সে ভর্তি নিশ্চিত করা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এটি সংগঠনের মানবিক চর্চারই বহিঃপ্রকাশ।”
বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট রনজুয়ারা সিপুকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি জাতীয় সংসদে উপকূলীয় নারী ও সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরতে সক্ষম হবেন।জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার লেমুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বরগুনা মহকুমায় রূপান্তরের অন্যতম সংগঠক প্রবীণ ব্যক্তিত্ব প্রয়াত মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম গেন্দু পঞ্চায়েতের কন্যা অ্যাডভোকেট রনজুয়ারা সিপু ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয়। ১৯৯৪ সালে বরিশাল বিএম কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই কলেজ ছাত্রদলের কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।পরবর্তীতে তিনি বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্য, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। দলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১১ সাল থেকে নানা রাজনৈতিক চাপ ও হয়রানির মুখোমুখি হলেও তিনি এলাকা ছাড়েননি। ২০১২ সালে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখায় একাধিকবার পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও জানা গেছে।২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার তাকে বরগুনা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি নির্যাতিত নারী ও শিশুদের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে অধিকারবঞ্চিত নারী ও শিশুদের কল্যাণে কাজ করছেন।পাথরঘাটার তানিয়া আক্তার ও তালতলীর রাবেয়া বেগম বলেন, অ্যাডভোকেট রনজুয়ারা সিপু আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন। তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিলে তিনি উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। তারা বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর কাছে তার মনোনয়ন প্রদানের দাবি জানান।এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট রনজুয়ারা সিপু বলেন, ছাত্রদল থেকে বিএনপির রাজনীতিতে আমার হাতেখড়ি। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় অনেক অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছি, একাধিক মিথ্যা মামলার আসামি হয়েছি। কিন্তু দল থেকে কখনও বিচ্যুত হইনি। দলের প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে কোনো দায়িত্ব দিলে তা মাথা পেতে নেব। তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলে যুক্ত হয়েই সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছি। এখনও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।
জয়পুরহাটে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে। বেসরকারি ফলাফলে ৯ হাজার ৪১ ভোটের ব্যবধানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জনাব ফজলুর রহমান সাঈদ বিজয়ী হয়েছেন। তবে সংখ্যার হিসাবের বাইরে গিয়ে পুরো জেলায় এখন যে নামটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত, তিনি ধানের শীষের প্রার্থী জনাব মাসুদ রানা প্রধান।হারের মাঝেও নৈতিক বিজয়ের বার্তাসরকারি-বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, মাসুদ রানা প্রধান পেয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩৪ ভোট। এই বিপুল ভোট কেবল একটি প্রতীকের প্রতি সমর্থন নয়; বরং এটি ছিল তার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।নির্বাচনের শুরু থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে তিনি প্রমাণ করেছেন— জয়পুরহাটের জনমানুষের হৃদয়ে তার অবস্থান কতটা গভীর ও সুদৃঢ়। ফলাফলে পরাজয় এলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটসংখ্যা ভবিষ্যতের জন্য এক বড় শক্তি ও সম্ভাবনার ইঙ্গিত।আবেগঘন প্রতিক্রিয়া, স্তব্ধ সমর্থকরাফলাফল ঘোষণার পর তার কর্মী-সমর্থকদের মাঝে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেক প্রবীণ ভোটার অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন,“ভোটের অঙ্কে আমরা হয়তো পিছিয়ে গেছি, কিন্তু আমাদের নেতার ত্যাগ ও সংগ্রাম বৃথা যেতে দেব না।”মাসুদ রানা প্রধান কেবল একজন প্রার্থী নন— বহু মানুষের কাছে তিনি বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো এক সাহসী ও মানবিক মুখ। নির্বাচনকে ঘিরে তার নিরলস প্রচারণা, সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাওয়া এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা সমর্থকদের মাঝে আলাদা প্রত্যাশা তৈরি করেছিল।এক আবেগাপ্লুত সমর্থকের ভাষায়,“রাজনীতিতে হার-জিত থাকবেই। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা জয় করা সবার ভাগ্যে জোটে না। মাসুদ রানা আজ হেরেও মানুষের হৃদয়ে জয়ী।”আগামীর পথে নতুন অনুপ্রেরণাদেড় লক্ষাধিক ভোটারের সমর্থন প্রমাণ করে— এই লড়াই কোনো সমাপ্তি নয়, বরং একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন বিপুল জনসমর্থন ভবিষ্যতে তাকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।পরাজয়ের গ্লানি নয়, বরং জনমানুষের ভালোবাসাকে পুঁজি করে আবারও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন— এমন প্রত্যাশা তার সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের।নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ হয়েছে, কিন্তু জয়পুরহাটের রাজনৈতিক অঙ্গনে মাসুদ রানা প্রধানকে ঘিরে যে আবেগ ও আস্থা তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘদিন আলোচিত থাকবে— এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের উদ্যোগে এক বিশাল গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (৯ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে তিনটায় মিছিলটি আড়াইবাড়ি মাদ্রাসা মাঠ থেকে শুরু হয়ে কসবার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কসবা রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে সমাপ্ত হয়। মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের জামায়াত জোটের মনোনীত প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার। তিনি বলেন, “দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, দুঃশাসন ও লুটপাটের রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। জনগণ আজ একটি ন্যায়ভিত্তিক, ইনসাফপূর্ণ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি আরও বলেন, আমরা ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুশাসন কায়েমের জন্য রাজনীতি করছি। যদি জনগণ আমাদের দায়িত্ব দেয়, তাহলে কসবা-আখাউড়াকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি আদর্শ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোবারক হোসাইন আকন্দ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক নায়েবে আমীর কাজী ইয়াকুব আলী, জেলা জামায়াতের যুব ও আইন বিষয়ক সম্পাদক কাজী সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা আমীর অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, নায়েবে আমীর শিবলী নোমানী, কসবা পৌরসভা আমীর হারুন অর রশিদ, ছাত্রশিবিরের উপজেলা সভাপতি জাহিদ মোল্লা, খেলাফত মজলিসের আমীর হাফেজ আহমদ, এনসিপি নেতা তানভীর ইসলাম শাহিন ও ওবায়দুর রহমান প্রমুখ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় কুটির ইউনিয়নে মুশফিকুর রহমানের বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত। কুটির ইউনিয়নে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মশিউর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে এলাকার উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং জনসম্পৃক্ত রাজনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক সমর্থক। সভা শেষে মশিউর রহমান জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৮ নম্বর নেত্রকোনা-২ (নেত্রকোনা সদর ও বারহাট্টা) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। এই আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রবীণ ও অভিজ্ঞ প্রার্থীর সঙ্গে তরুণ নেতৃত্বের লড়াইকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩৮ জন।এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১২ জন।এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মো. আনোয়ারুল হক। জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে শাপলা কলি প্রতীকে লড়ছেন দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে এ বি এম রফিকুল হক তালুকদার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের বটগাছ প্রতীকে আব্দুর রহিম রুহী এবং ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকে আব্দুল কাইয়ুম নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।তবে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির প্রার্থী ডা. আনোয়ারুল হক ও জামায়াত জোট সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠানের মধ্যে।জেলা বিএনপির রাজনীতিতে ডা. আনোয়ারুল হক সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন ২০১২ সালে। রাজনৈতিক জীবনের শুরুটা হয় দলের দুঃসময়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তিনি একাধিক মামলার ভুক্তভোগী হন এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকেই ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দুঃসময়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় এই আসনে তাঁর শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এইবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে এনসিপির প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠান রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ।তিনি গণ অধিকার পরিষদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদের মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হন। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। আওয়ামী সরকার পতনের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিতে কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও জামায়াত জোটের শরিক দলের প্রার্থী হিসেবে এবার শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি।স্বাধীনতার পর নেত্রকোনা-২ আসন থেকে বিএনপি মোট দুইবার নির্বাচিত হয়েছে। ১৯৯১ সালে প্রথমবার বিএনপির হয়ে এমপি নির্বাচিত হন আবু আব্বাস। পরে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের এমপি আব্দুল মমিন মৃত্যুবরণ করলে ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে পুনরায় এই আসনে জয় পান আবু আব্বাস।এবার নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অনেক ভোটার বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জনসম্পৃক্ত থেকে কাজ করা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে ডা. আনোয়ারুল হক এগিয়ে রয়েছেন। তবে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, জামায়াত জোটের শরিক দল থেকে তুলনামূলক নতুন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আবার তরুণ ভোটারদের একটি অংশ মনে করেন, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তরুণ প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠানকে সুযোগ দেওয়া উচিত।সব মিলিয়ে নেত্রকোনা-২ আসনে প্রবীণ অভিজ্ঞতা না তরুণ নেতৃত্ব—কার প্রতি ভোটাররা আস্থা রাখবেন, তার উত্তর মিলবে ভোটের দিনই।
ভাগ্য পরিবর্তন ও দেশ পুনর্গঠনের প্রত্যয়ে টাঙ্গাইলের জনসভায় শক্ত বার্তা দিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তিনি বলেন, আগামীর রাজনীতি হবে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতি যেখানে উন্নয়নই হবে মূল লক্ষ্য, ক্ষমতা নয়।৩১ জানুয়ারী(শনিবার) টাঙ্গাইলের দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় আয়োজিত টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেন, এই দেশ কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পত্তি নয়। এ দেশ কোটি মানুষের। আগামি দিন হবে মানুষের ভাগ্য গড়ার দিন, দেশ গড়ার দিন।তিনি বলেন, বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে মানুষ আবার স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে ভোট শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয় এটি হবে মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ভোট। জনগণকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, অতীতের মতো এবারও ভোটকেন্দ্রে সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।একই সঙ্গে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে তারেক রহমান বলেন, ভোটের অধিকার যেন কেউ কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি দাবি করেন, বিএনপিই একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম।আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে।যুবসমাজ ও শিল্পখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি ও টুপি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এই শিল্প আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি আনারস ও পাটশিল্প রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। দেশ গড়তে এবং বিশ কোটি মানুষকে একসাথে এগিয়ে নিতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।জনসভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল। অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের আটটি সংসদীয় আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। জনসভা সঞ্চালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল–৫ (সদর) আসনের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। শেষপর্বে তারেক রহমান উপস্থিত জনতার সামনে আট আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ভোলা-৩ (তজুমদ্দিন–লালমোহন) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেছেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, ধর্মের অপব্যবহার করে একটি চরমপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী জনগণকে বিভ্রান্ত করছে, যা দেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।শুক্রবার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জামায়াত যদি তাদের উগ্রবাদী ও তালেবানী রাজনীতি থেকে সরে না আসে, তবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করার ষড়যন্ত্র সফল হতে পারে। এতে দেশের ওপর পরাশক্তির আগ্রাসনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।মেজর হাফিজ বলেন, “জামায়াতের উগ্রবাদী ও তালেবানী রাজনীতি শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাই নষ্ট করছে না, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই রাজনীতি অব্যাহত থাকলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।”তিনি আরও বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে একটি চরমপন্থী শাসনব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা দেশের গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানিক কাঠামোর জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ধরনের রাজনীতি কখনোই জনগণের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না; বরং দেশকে অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়।দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এ দেশের জনগণ কখনোই কোনো তালেবানী শাসনব্যবস্থা মেনে নেবে না। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই সব অপশক্তি ও ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত জবাব দেবে।”আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মেজর হাফিজ বলেন, এই নির্বাচন হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার নির্বাচন। বিএনপি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে এনে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা মিন্টু, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ওমর আসাদ রিন্টু, ভোলা জেলা আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ড. আমিরুল ইসলাম বাসেত, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকির হোসেন হাওলাদার, জেলা বিএনপির সদস্য হাসান মাকসুদুর রহমান, একেএম মহিউদ্দিন জুলফিকার, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি হাসান সাফা পিন্টুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।সভায় সভাপতিত্ব করেন শম্ভুপুর ইউনিয়ন উত্তর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব রেজাউল করিম নীরব। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শম্ভুপুর ইউনিয়ন উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
বিএনপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুনের রাজনীতির অভিযোগ তুলে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়।রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী কর্তৃক আয়োজিত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বাদ মাগরিব নির্বাচনী জামায়াত অফিস মিঠাপুকুর ডিসির মোড়থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন আসাদুজ্জামান শিমুল আমির মিঠাপুকুর উপজেলা শাখা,মাওলানা শফিকুল ইসলাম সেক্রেটারি মিঠাপুকুর উপজেলা শাখা,হাফেজ গোলাম রব্বানী সভাপতি যুব বিভাগ মিঠাপুকুর উপজেলা শাখা, মেহেদী হাসান সেক্রেটারি যুব বিভাগ মিঠাপুকুর উপজেলা শাখা, হারুন অর রশিদ চেয়ারম্যান সাঈদী স্মৃতি সংসদ, ফারুক হোসেন ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদী স্মৃতি সংসদ,শফিকুল ইসলাম ভাই চেয়ারম্যান সাঈদীর স্মৃতি সংসদ,আব্দুস সালাম খন্দকার আমির ১৪ নং দূর্গাপুর ইউনিয়ন শাখা, শাহ হাফিজুর রহমান ফকির সেক্রেটারি ১৪ নং দুর্গাপুর ইউনিয়ন শাখা, সাজেদুর রহমান সবুজ কোষাধ্যক্ষ যুব বিভাগ ১৪ নং দুর্গাপুর ইউনিয়ন শাখা, আলমগীর কবীর সহকারী সেক্রেটারি যুব বিভাগ ১৪ নং দুর্গাপুর ইউনিয়ন শাখা, আহাদ মন্ডল সেক্রেটারি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ১৪ নং দুর্গাপুর ইউনিয়ন শাখা,আখের,জামায়াত নেতা ,রাকিব জামায়াত নেতা,মিথুন জামায়াত নেতা,মোকতার জামায়াত নেতা,মাহবুবুর রহমান, জামায়াত নেতা,চাঁদ জামায়াত নেতা,বাকী জামায়াত নেতা, স্বপন প্রধান জামায়াত নেতা,আলামিন বেগ জামায়াত নেতা,রিপুল জামায়াত নেতা,মুজাহিদ,মুসা,আলম,এনামুল,মিঠুল,নুর ইসলাম জামায়াত নেতাসহ হাজার হাজার নেতা কর্মী। উপজেলা আমির আসাদুজ্জামান শিমুল বলেন, গত দেড় বছরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও রাহাজানির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িত দল বিএনপি। নিজেদের দলের ভেতরেই দুই শতাধিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যাদের হাতে নিজেদের দলের লোক নিরাপদ নয়, তাদের হাতে দেশ কীভাবে নিরাপদ থাকবে?তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দেশে ফিরে দলকে শৃঙ্খলায় আনার আশা থাকলেও বাস্তবে নারী নির্যাতন, হামলা ও চাঁদাবাজি বেড়েছে। বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের ওপর বর্তায়। শেরপুরের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচার না হলে প্রশাসনের পরিণতিও ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে যেকোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও হত্যার বিরুদ্ধে রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।বিক্ষোভ মিছিলে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়, যা জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়,যেখানে বক্তারা হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।কোনো হামলা, মামলা বা প্রতিহিংসা আমাদেরকে থামাতে পারবে না। আমাদের এ পথচলা চিরস্থায়ী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রের চর্চা ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী কার্যক্রমে এমন হামলা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে। প্রশাসনকে নির্বাচনী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।মিছিলে ‘মানুষ খুনের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘বিচার চাই, মানুষ হত্যার বিচার চাই’, ‘মানুষ খুনের মাস্টার প্ল্যান’, ‘শেরপুরে মানুষ খুন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়। সন্ত্রাসীদের কালো হাত,ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও।অবিলম্বে খুনিদের, গ্রেফতার করো করতে হবে ইত্যাদি।বিক্ষোভ মিছিলটি ডিসির মোড় এলাকা থেকে থানার সামনে দিয়ে গড়ের মাথা হয়ে ওভার ব্রিজের নিচে এসে শেষ হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন বিএনপি নেতা নাছির উদ্দীন হাজারী। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন।দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমানকে সমর্থন জানিয়ে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাছির উদ্দীন হাজারী বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতি করে আসছেন। তিনি এর আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছিলেন। তবে দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে দলের মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।এ সময় কসবা-আখাউড়া সংসদীয় আসনে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষপ্রাপ্ত চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি মুশফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর নাছির উদ্দীন হাজারী কসবা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম জমা দেন। পরবর্তীতে ৪ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত ভোটার তালিকায় স্বাক্ষর গরমিলের অভিযোগে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন।এরপর তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন (ইসি)-তে আপিল করেন। ১৭ জানুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানি শেষে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান। তবে দলের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে ২০ জানুয়ারি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
বিশ্ব রাজনীতির প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সেলিব্রিটিদের সঙ্গে একই কাতারে উঠে এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন তারেক রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জনপ্রিয়তা ও আলোচনার দিক থেকে তিনি এখন বিশ্বের শীর্ষ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের একজন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষণধর্মী আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট সোশ্যাল ব্লেড প্রকাশিত ‘টপ ১০০ ফেসবুক ক্রিয়েটরস বাই সোশ্যাল’ তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন তারেক রহমান। সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকায় তার অবস্থান ৬৪তম।বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—ফেসবুকে তাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত কনটেন্টের সংখ্যার ভিত্তিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়েও এগিয়ে রয়েছেন। একই তালিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান ৬৭তম। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা ও আলোচনার ব্যাপ্তি আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।সোশ্যাল ব্লেডের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ বলতে শুধু নিজে কনটেন্ট তৈরি করা নয়; বরং যেসব ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি পোস্ট, ভিডিও, গ্রাফিক্স ও বিভিন্ন ধরণের কনটেন্ট প্রকাশিত হয়—তাদেরই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই হিসেবে তারেক রহমান বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক সেলিব্রিটিদের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছেন।রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত বক্তব্য ও দিকনির্দেশনার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হচ্ছে। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে তার কনটেন্টের পরিসর দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমান সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী মতপ্রকাশের মাধ্যম। সেই মাধ্যমে তারেক রহমানের এই অবস্থান প্রমাণ করে—তিনি কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নন, বরং বৈশ্বিক পরিসরে আলোচিত ও প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।ফেসবুকে বিশ্বের শীর্ষ কনটেন্ট ক্রিয়েটরের তালিকায় তারেক রহমানের এই অর্জন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র ও দলীয় নীতিমালা অনুযায়ী নেত্রকোণা জেলার আওতাধীন দুর্গাপুর উপজেলা শাখার ৬১সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে নেত্রকোণা জেলা জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের সভাপতি মোঃ মোবারক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অলিউল্লাহ রহমান অলি স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কমিটির অনুমোদন ঘোষণা করা হয়।দলীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে দুর্গাপুর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে, যা সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন দলীয় নেতৃবৃন্দ।অনুমোদিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোঃ নাজমুল হক মীর শরীফ (বাকল জোড়া ইউনিয়ন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ দেলোয়ার হোসেন (কুল্লাগড়া ইউনিয়ন)।এছাড়া সহ-সভাপতি পদে একাধিক ইউনিয়নের অভিজ্ঞ ও উদ্যমী নেতৃবৃন্দকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মিজারুল ইসলাম (কুল্লাগড়া ইউনিয়ন), যিনি সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মতৎপরতার জন্য পরিচিত।পাশাপাশি একাধিক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মোঃ নজরুল ইসলাম সিকদার (কলমাকান্দা সদর ইউনিয়ন)সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাধ্যমে কমিটিকে কার্যকর ও গতিশীল রূপ দেওয়া হয়েছে।ইউনিয়নভিত্তিক ভারসাম্য ও প্রতিনিধিত্ব -এই কমিটিতে ১নং কুল্লাগড়া, ২নং দুর্গাপুর, ৩নং চন্ডিগড়, ৪নং বিরিশিরি, ৫নং বাকল জোড়া, ৬নং কাকৈরগড়া ৭নং গাওকান্দিয়া ইউনিয়ন নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে উপজেলা জুড়ে সংগঠনের কার্যক্রম সমানভাবে বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।দলীয় নেতারা মনে করছেন, এই ইউনিয়নভিত্তিক ভারসাম্য ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।নেত্রকোণা জেলা জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের সভাপতি মোঃ মোবারক হোসেন বলেন,কলমাকান্দা উপজেলা প্রচার দলের এই কমিটি দলীয় আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও জনগণের পক্ষে কথা বলবে।জেলা সাধারণ সম্পাদক অলিউল্লাহ রহমান অলি বলেন,নতুন এই কমিটির মাধ্যমে কলমাকান্দা উপজেলায় জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে এই কমিটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।নেত্রকোণা জেলা জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের পক্ষ থেকে নবগঠিত কমিটির সকল নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার এবং দলের সকল কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানানো হয়।দলীয় সূত্রে আরও জানানো হয়, খুব শিগগিরই দুর্গাপুর উপজেলায় নতুন কমিটির উদ্যোগে সাংগঠনিক সভা, প্রচার কার্যক্রম ও জনসংযোগমূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে।
দ্রুত এবং সহজে খবর পড়তে আমাদের অ্যাপটি ব্যবহার করুন।
সবার আগে ব্রেকিং নিউজ এবং গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।