চ্যানেল এ
লিংক কপি হয়েছে!
আপনি কি আগের জায়গা থেকে পড়া শুরু করতে চান?
×

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

লোডিং...
শুভ সকাল, প্রিয় পাঠক!
সতর্কতা: এই সংবাদটি ৬ মাসের বেশি পুরানো। তথ্যের ভিত্তি পরিবর্তন হতে পারে।

নেপালের অস্থিরতায় উদ্বেগে ভারত



নেপালের অস্থিরতায় উদ্বেগে ভারত

ফেসবুক প্রতিক্রিয়া

লাইক এবং শেয়ার দেখুন
সংবাদের বিষয়সূচি

    নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। সহিংসতায় অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা নামানো হয়েছে এবং দেশজুড়ে কারফিউ জারি আছে।

    রাজধানী কাঠমান্ডুর অস্থিরতা অনেককেই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে গত বছরের বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক সংকটকে। ভারতের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে চিন্তার কারণ, কারণ নেপালের সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৭৫০ কিলোমিটার উন্মুক্ত সীমান্ত আছে, যা ভারতের উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের সহিংসতায় হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, “এত তরুণ প্রাণহানি হৃদয়বিদারক। নেপালের স্থিতিশীলতা ও শান্তি অত্যন্ত জরুরি।” এ নিয়ে তিনি মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকও করেছেন।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শ্রীলঙ্কার মতো হঠাৎ করে নেপালের পরিস্থিতি অবনতি ভারতের জন্য বড় ধাক্কা। কারণ চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় সামরিক অঞ্চল নেপালের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থান করছে। পাশাপাশি প্রায় ৩৫ লাখ নেপালি ভারতে বসবাস বা কাজ করেন, আর ৩২ হাজার গুর্খা সেনা ভারতীয় বাহিনীতে কর্মরত।

    নেপালের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সম্পর্কও গভীর—বার্ষিক লেনদেন প্রায় ৮.৫ বিলিয়ন ডলার। খাদ্য ও জ্বালানির জন্য কাঠমান্ডু মূলত ভারতের ওপর নির্ভরশীল। একইসঙ্গে নেপাল ভারতের হিন্দু তীর্থযাত্রীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।

    রাজনৈতিক সংকটে বিক্ষোভকারীরা নেপালের তিন প্রধান দলকেই অভিযুক্ত করছে। এর মধ্যে চীন ও ভারতের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে জনমনে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতকে নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষাবৃত্তি ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পাশে টানতে হবে।

    দক্ষিণ এশিয়ায় সার্ক কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ায় ভারতের জন্য এই অস্থিরতা মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। প্রতিবেশী বাংলাদেশে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে জটিল করছে।

    অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল অশোক মেহতার ভাষায়, “ভারত বড় শক্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের আগে নিজস্ব প্রতিবেশে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি।”

    এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?
    👍
    লাইক
    ❤️
    ভালোবাসি
    😂
    হা হা
    😮
    ওয়াও
    😢
    দুঃখজনক
    খবরটি রেটিং দিন
    গড় রেটিং: 4.8/5 (142 ভোট)
    Google News

    গুগল নিউজে ফলো করুন

    সবার আগে সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন

    Follow

    হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে যুক্ত হোন

    খবরের সব আপডেট সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে যুক্ত থাকুন

    Join Now

    বিষয় : ভারত

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক

    প্রতিবেদক, চ্যানেল এ

    তিনি নিয়মিত রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    আপনার মতামত লিখুন

    Loading...

    পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...

    চ্যানেল এ

    বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


    নেপালের অস্থিরতায় উদ্বেগে ভারত

    প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

    featured Image

    নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। সহিংসতায় অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা নামানো হয়েছে এবং দেশজুড়ে কারফিউ জারি আছে।

    রাজধানী কাঠমান্ডুর অস্থিরতা অনেককেই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে গত বছরের বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক সংকটকে। ভারতের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে চিন্তার কারণ, কারণ নেপালের সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৭৫০ কিলোমিটার উন্মুক্ত সীমান্ত আছে, যা ভারতের উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের সহিংসতায় হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, “এত তরুণ প্রাণহানি হৃদয়বিদারক। নেপালের স্থিতিশীলতা ও শান্তি অত্যন্ত জরুরি।” এ নিয়ে তিনি মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকও করেছেন।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শ্রীলঙ্কার মতো হঠাৎ করে নেপালের পরিস্থিতি অবনতি ভারতের জন্য বড় ধাক্কা। কারণ চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় সামরিক অঞ্চল নেপালের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থান করছে। পাশাপাশি প্রায় ৩৫ লাখ নেপালি ভারতে বসবাস বা কাজ করেন, আর ৩২ হাজার গুর্খা সেনা ভারতীয় বাহিনীতে কর্মরত।

    নেপালের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সম্পর্কও গভীর—বার্ষিক লেনদেন প্রায় ৮.৫ বিলিয়ন ডলার। খাদ্য ও জ্বালানির জন্য কাঠমান্ডু মূলত ভারতের ওপর নির্ভরশীল। একইসঙ্গে নেপাল ভারতের হিন্দু তীর্থযাত্রীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।

    রাজনৈতিক সংকটে বিক্ষোভকারীরা নেপালের তিন প্রধান দলকেই অভিযুক্ত করছে। এর মধ্যে চীন ও ভারতের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে জনমনে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতকে নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষাবৃত্তি ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পাশে টানতে হবে।

    দক্ষিণ এশিয়ায় সার্ক কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ায় ভারতের জন্য এই অস্থিরতা মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। প্রতিবেশী বাংলাদেশে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে জটিল করছে।

    অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল অশোক মেহতার ভাষায়, “ভারত বড় শক্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের আগে নিজস্ব প্রতিবেশে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি।”


    চ্যানেল এ

    মোবাইল নাম্বারঃ +8801602460060

    Email: hr.channela@gmail.com
    বিজ্ঞাপনঃ +8801602460060
    info@channelabd.com


    কপিরাইট © ২০২৬ চ্যানেল এ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
    App Icon
    অ্যাপ ইন্সটল করুন

    দ্রুত এবং সহজে খবর পড়তে আমাদের অ্যাপটি ব্যবহার করুন।

    সর্বশেষ খবরের আপডেট চান?

    সবার আগে ব্রেকিং নিউজ এবং গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে নোটিফিকেশন চালু করুন।