কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের চরমারিয়া গ্রামে নির্মমভাবে খুন হওয়া শিশু রৌজা মনি (৫) হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার আসামিদের সঙ্গে নিহতের পিতা সুমন মিয়া ও দাদি গুলনাহারের গোপন আপসনামা সম্পাদনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একদিকে মা লড়ছেন সন্তানের খুনের বিচারের জন্য, অন্যদিকে বাবা ও দাদির এমন ভূমিকা নিয়ে উঠেছে নৈতিক ও আইনি প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রৌজা মনি হত্যাকাণ্ডের পর তার মা আছমা আক্তার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তবে মামলার এক মাস পর রৌজার দাদি গুলনাহার বেগম নতুন আসামিদের অন্তর্ভুক্ত করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রথম মামলার চিহ্নিত আসামিদের রক্ষার্থেই দ্বিতীয় মামলাটি একটি ‘কৌশল’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক ও স্থানীয়ভাবে জানাজানি হয় যে, রৌজা মনির বাবা সুমন মিয়া ও দাদি গুলনাহার মামলার মূল আসামিদের সঙ্গে একটি লিখিত চুক্তি বা আপসনামা সম্পাদন করেছেন। একটি শিশু হত্যার মতো জঘন্য ও জামিন অযোগ্য অপরাধে পরিবারের সদস্যদের এমন আপসকামিতা সাধারণ মানুষকে হতবাক করেছে।
স্থানীয়দের মতে, হত্যাকাণ্ড কোনো দেওয়ানি বিরোধ নয় যে সমঝোতা করা যাবে।
এই ধরনের আপসনামা ন্যায়বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং অপরাধীদের পার পাওয়ার সুযোগ করে দেবে।
একজন মা যখন সন্তানের বিচার পেতে লড়ছেন, তখন বাবার এমন ভূমিকা ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র শামিল।
আইনজ্ঞদের মতে, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার (হত্যা মামলা) অপরাধ আপসযোগ্য নয়। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে এই মামলা পরিচালিত হয়, তাই ব্যক্তিগতভাবে কোনো চুক্তি বা আপসনামার আইনি ভিত্তি নেই। তবে এই ধরনের কর্মকাণ্ড সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করা বা আদালতে সাক্ষীদের প্রভাবিত করার একটি অপচেষ্টা হতে পারে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকার কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে এই রহস্যজনক আপসনামার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং প্রকৃত অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
রৌজা মনির মা আছমা আক্তার বলেন, "আমি আমার কলিজার টুকরো হারাইছি, আমি কোনো টাকা বা আপস চাই না। আমি শুধু খুনিদের ফাঁসি চাই। যারা আসামিদের সাথে হাত মিলাইছে, তারা রৌজার রক্তের সাথে বেইমানি করছে।"
আপনার মতামত লিখুন