শীত মৌসুমের শেষ সময়ে মনোমুগ্ধকর রূপ নিয়েছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত।
সমুদ্রের শীতল হাওয়া ও ঢেউয়ের কলরবে সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সৈকত এলাকা।
শুক্র ও শনিবার পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে পর্যটকরা সৈকতে সময় কাটান। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ছাতার নিচে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। আবার কেউ ঘোড়ার পিঠে চড়ে সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ১৮ থেকে ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতজুড়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, বিপণিবিতান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী, ঝাউবাগান, গঙ্গামতি, চর গঙ্গামতি ও লাল কাঁকড়ার চড়সহ কুয়াকাটার প্রায় সব পর্যটন স্পটেই পর্যটকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও পরিবারভিত্তিক পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পটুয়াখালী থেকে আসা পর্যটক জাহিদ বলেন, “কুয়াকাটা খুব সুন্দর জায়গা, অনেক ছবি তুলেছি ভীষণ ভালো লেগেছে।”
পর্যটক সজীব জানান, “সাপ্তাহিক ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে সময়টা দারুণ কেটেছে।”
নারী পর্যটক মনোয়ারা বেগম বলেন, “পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় আসতেই সবচেয়ে ভালো লাগে।”
কুয়াকাটা সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাহিদ বলেন, “পর্যটক থাকলে আমাদের বেচাকেনাও ভালো হয়।”
হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহীম ওয়াহিদ জানান, মৌসুমি ছুটিতে কুয়াকাটায় রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক এসেছেন। সৈকতসংলগ্ন হোটেলগুলো শতভাগ বুকিং হয়েছে এবং আশপাশের হোটেলগুলোর ৭০ থেকে ৯৫ শতাংশ কক্ষ আগেই বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, মহিপুর থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশের পাশাপাশি সরেজমিনে সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। এতে পর্যটকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন